পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া সাফা বন্দরের দেবীপুর এলাকায় আলুবোঝাই একটি ট্রাকের চাপে বেইলি সেতু ভেঙে খালে পড়ে গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অতিরিক্ত আলুবোঝাই ওই ট্রাকটি সেতুটি পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা-চরখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত ১০টি রুটের সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বিধ্বস্ত সেতুর দুই পাড়ে দূরপাল্লার পরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহন আটকা পড়েছে। ফলে পণ্য পরিবহনসহ দুই পাড়ের হাজার হাজার যাত্রী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধ্বস্ত সেতুর পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণকাজ চলমান থাকায় পাশের পুরনো বেইলি সেতুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করছিল। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই বেইলি সেতুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। মঠবাড়িয়াগামী অতিরিক্ত আলুবোঝাই ট্রাকটি সেতু পার হওয়ার সময় সেতুর মাঝখান থেকে ট্রাকসহ ভেঙে খালে পড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী সুমন বেপারী জানান, সেতুটি ধসে যাওয়ায় মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা-চরখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত ১০ রুটের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। দূরপাল্লার যাত্রী ও স্থানীয়দের গাড়ি থেকে নেমে খেয়ার নৌকায় পার হতে হচ্ছে। কোনো ধরনের পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। এমনকি জরুরি রোগী পরিবহনের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন এ আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, পিকআপ ও পণ্যবাহী ছোট যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালসহ দেশের দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন গাড়ি চলাচল করে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বেইলি সেতুটি পুরাতন ছিল। সেতুটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ছিল ২০ মেট্রিক টন। কিন্তু ট্রাকটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি ওজনের আলু বোঝাই থাকায় সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে। এতে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
সওজের উদ্যোগ
পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রকৌশলী মো. রাসেল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক সেতু পার হতে গিয়ে সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে আঞ্চলিক মহাসড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে বিধ্বস্ত সেতুটি দ্রুত সংস্কার ও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, পাশে একটি পাকা সেতু নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় ভেঙে পড়া বেইলি সেতুটি বিকল্প পারাপার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।



