নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লার বাসিন্দারা একটি বানরের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে আকুতি জানিয়েছেন। সম্প্রতি গণস্বাক্ষর–সংবলিত একটি দরখাস্তের মাধ্যমে তাঁরা এ আবেদন জানান।
আহতের সংখ্যা ও টিকা
এলাকাবাসীর দাবি, গত তিন মাসে বানরটির আক্রমণে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে টিকা নিতে হয়েছে। নাটোর সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ নার্স পারভিন আক্তার বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই বানরের আক্রমণের শিকার হয়ে রোগী আসছেন। গত তিন মাসে আমরা ১৫ জনকে টিকা দিয়েছি। অনেকে বাইরে থেকেও টিকা নিচ্ছেন।’
আক্রান্তদের অভিজ্ঞতা
মহল্লার বাসিন্দা কাকলী রায় (৩২) বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগে আমি এক দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ বানরটি লাফ দিয়ে আমার হাতে কামড় দেয়। এতে একটি আঙুলের রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অপারেশন করে রগ জোড়া দিয়েছি। এখনো পুরো সুস্থ হতে পারিনি।’ একই এলাকার সঞ্জয় রায় (২৫) বলেন, ‘একদিন বানরটি আমার ঘরে ঢুকে ফ্রিজ খোলার চেষ্টা করছিল। আমি দৌড়ে এসে দরজা দিতে গেলে বানরটি আমার কনুইয়ের নিচে কামড় দিয়ে গর্ত করে ফেলে। সাতটি টিকা নিয়েছি।’
বন বিভাগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
বন বিভাগের রাজশাহী কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘লালবাজারের বানরটি অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বারবার চেষ্টা করেও আমরা বানরটিকে ধরতে পারিনি। আমরা এখন বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছি।’ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল হায়াত বলেন, ‘মহল্লাবাসীর দরখাস্ত পেয়েছি। বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের ভোগান্তি
মহল্লার বাসিন্দারা জানান, প্রায় তিন মাস আগে ভিন্ন এলাকা থেকে একটি ‘খ্যাপা’ বানর এসে মহল্লাটিতে অবস্থান নেয়। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বানরটি মহল্লার রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ায়। বাড়ির রান্নাঘর, খাবার টেবিল, হোটেলসহ বিভিন্ন দোকানে ঢুকে খাবার নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মহল্লাবাসীর ওপর আক্রমণ চালায়। এর ভয়ে বাসিন্দাদের সারাক্ষণ ঘরের দরজা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।



