মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, দেশের কাঁচা চামড়া খাতে বারবার সংকটের মূল কারণ কোনো সংগঠিত 'লেদার সিন্ডিকেট' নয়, বরং প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা। সোমবার কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সংরক্ষণ ও পরিচর্যার অভাব
মন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার মূল কারণ অনুপযুক্ত সংরক্ষণ ও খারাপ পরিচর্যা। তিনি বলেন, 'লেদার সিন্ডিকেট' শব্দটি মূলত জনগণের ধারণা। কাঁচা চামড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল। সময়মতো ও সঠিকভাবে লবণ না দিলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। যদি সংরক্ষণ উন্নত হয়, তাহলে ট্যানারি মালিকরা স্বাভাবিকভাবেই ভালো দাম দেবেন।
নিম্নমানের চামড়া ও প্রশিক্ষণ
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ঈদের সময় সংগৃহীত প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ চামড়া নিম্নমানের হয়, কারণ পশু থেকে চামড়া তুলতে গিয়ে ক্ষতি হয়। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে আগামী বছরগুলিতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার মানুষকে চামড়া সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি অর্থনীতির ওপর জোর
মন্ত্রী সরকারের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারের বেশিরভাগ নীতিগত প্রতিশ্রুতি কৃষির ওপর কেন্দ্রীভূত, কারণ দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। 'কৃষি সমৃদ্ধ হলে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হবে,' তিনি বলেন।
কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ
অনুষ্ঠানে কৃষকদের মধ্যে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ধান কাটার যন্ত্র, ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, এলএলপি মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রেয়ার। এগুলো ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বিতরণ করা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লা অঞ্চলের তিনটি জেলায় ৩ হাজার ৪৩২টি কৃষক দল গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলায় ৫৫টি দল রয়েছে। প্রাথমিকভাবে, কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৪টি দলকে বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষ চলতি অর্থবছরের মধ্যে ফুট পাম্প, বেড প্ল্যান্টার ও ধান মাড়াই যন্ত্রসহ আরও কৃষি সরঞ্জাম বিতরণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।



