চট্টগ্রামের পশুর হাটে গোলাপি মহিষের ভিড়, দাম ১১ লাখ টাকা
চট্টগ্রামে গোলাপি মহিষ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগ্রহ

চট্টগ্রাম নগরের নূরনগর হাউজিং এলাকায় বসেছে শহরের সবচেয়ে বড় অস্থায়ী পশুর হাট। এই হাটের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে গোলাপি রঙের দুটি মহিষ। আজ সোমবার বিকেলে হাটে গিয়ে দেখা যায়, মহিষ দুটিকে দেখতে মানুষের ভিড়। বয়স্কদের চেয়ে শিশু-কিশোরদেরই আগ্রহ বেশি। মহিষ দুটির গায়ের রং পুরোপুরি গোলাপি। এই কারণে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা এদের 'পিঙ্ক মহিষ' নামে ডাকছেন। আবার কারও কারও মতে, গায়ের চুলের কারণে এদের 'ট্রাম্প' নামেও ডাকা হচ্ছে। তবে বিক্রেতা নুরুল আলম জানান, তিনি কোনো নাম দেননি।

গোলাপি মহিষের পরিচিতি

গোলাপি রঙের এই মহিষ দুটি আনা হয়েছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং থেকে। এদের গায়ের রং দেখে হাটে আসা সবাই মুগ্ধ। অনেকেই মুঠোফোনে ভিডিও ও ছবি তুলছেন। খামারি নুরুল আলম ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি জানান, মহিষ দুটি তিনি তিন বছর আগে ভৈরব থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। তখন থেকেই নিজের খামারে লালন-পালন করছেন। তবে পরিবারের বাইরে কাউকে দেখতে দেননি। তাঁর মতে, মহিষ দুটি খুব সংবেদনশীল, তাই সাবধানে রাখতেন। গরমের দিনে বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা ছিল।

দাম ও বিক্রির অবস্থা

এবারের হাটে মহিষ দুটির দাম হাঁকানো হচ্ছে সাড়ে ১১ লাখ টাকা। একটির দাম ছয় লাখ, অন্যটির সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। তবে ক্রেতারা এখনো এই দামে রাজি হননি। কেউ ছয় লাখ, কেউ সাত লাখ টাকা দর বলছেন। নুরুল আলম জানান, তিনি অনেক আদর-যত্ন করে মহিষ দুটি পালন করেছেন। খাবার ও থাকার ব্যবস্থায় অনেক টাকা খরচ হয়েছে। তাই তিনি ১০ লাখ টাকা পেলে দিতে রাজি। যদি কেউ দুটি একসঙ্গে কেনেন, তাহলে একটি খাসি বিনা মূল্যে দেবেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অ্যালবিনো মহিষের বৈশিষ্ট্য

সাধারণত মহিষের গায়ের রং ঘন কালো বা কালচে ধূসর হয়। তবে কখনো কখনো ভিন্ন রঙেরও দেখা যায়। চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর জানান, এগুলো অ্যালবিনো মহিষ। ত্বকে মেলানিন নামক রঞ্জকের অসামঞ্জস্যপূর্ণ উপস্থিতির কারণে গায়ের রং সাদা বা গোলাপি হয়। এটি কোনো রোগ নয়।

বাজারের সার্বিক অবস্থা

গোলাপি মহিষ দেখতে ভিড় থাকলেও পুরো হাট এখনো জমেনি। ব্যাপারীরা জানান, ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। মোহাম্মদ শাহেদ ৩৫টি গরু এনেছেন, কিন্তু মাত্র ৭টি বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের পরিস্থিতির কারণে মানুষের টাকাপয়সা কম। মোশাররফ হোসেন ৪৫টি ছোট গরু এনেছেন, এখনো বিক্রি হয়নি। তবে তিনি আশাবাদী। হাটের ইজারাদার মো. ইব্রাহিম জানান, শহরের হাট দেরিতে জমে। ঈদের দুই-তিন দিন আগে মূল বিক্রি হয়। এবার বড় গরুর সংখ্যা কম, ছোট ও মাঝারি আকারের গরু বেশি।

চট্টগ্রাম নগরে এবার তিনটি স্থায়ী ও সাতটি অস্থায়ী হাট বসেছে। ইজারাদাররা জানান, মূল বেচাবিক্রি ঈদের আগের দুই দিন হবে।