অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। তবে সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করলে পুষ্টি বজায় রেখে মাংস খাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক মাংস রান্নার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস।
তেল-চর্বি কম রাখুন
মাংসের দৃশ্যমান চর্বি যতটা সম্ভব কেটে ফেলে দিন। রান্নায় তেলের ব্যবহার সীমিত রাখুন। তেল ছাড়াও মাংস রান্না করা সম্ভব। লাল মাংসে (যেমন গরু বা খাসির মাংস) যে চর্বি থাকে, উত্তাপে তার কিছুটা বেরিয়ে আসে। তেল ছাড়া রান্না করলে সেই তেলতেলে অংশই রান্নার কাজে আসবে। ডুবো তেলে ভাজা পদ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। বরং নানা রকম মসলা ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন পদ তৈরি করতে পারেন। তাতে স্বাদে বৈচিত্র্য আসবে এবং স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হবে না।
ঝলসালেও যেন কালো না হয়
কেউ কেউ মাংস গ্রিল বা ঝলসিয়ে খেতে পছন্দ করেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, মাংস যেন পুড়ে কালো না হয়ে যায়। ঝলসাতে হবে মৃদু আঁচে, সময় নিয়ে। তাহলে ভেতরটা ভালোভাবে সেদ্ধ হবে। ঝলসানোর আগে অবশ্যই অন্যান্য উপকরণ দিয়ে মাখিয়ে রাখতে হবে।
পুষ্টি থাক ঠিকঠাক
উচ্চ তাপে মাংস রান্না না করাই ভালো। বরং মাঝারি তাপে ধীরেসুস্থে রান্না করুন। তাড়া থাকলে প্রেশার কুকার ব্যবহার করুন। পশু জবাই করার তিন-সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে মাংস রান্না করা ভালো। বেশি দেরি করলে কিছু পুষ্টি উপাদান নষ্ট হতে পারে। মাংস ঢেকে রান্না করা উচিত, নইলে পুষ্টি উপাদান বাষ্পীভূত হয়ে যেতে পারে। বারবার জ্বাল দিয়ে মাংস ঝুরি করে ফেললে পুষ্টি নষ্ট হয়। ঝোল–জাতীয় পদে পুষ্টি উপাদান ঠিক থাকে।
মাংসের সঙ্গে সবজি যোগ করুন
মাংসের সঙ্গে কিছু সবজি যোগ করে ভিন্ন ধরনের পদ রান্না করা যায়। এতে মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা সহজ হয় এবং সবজির পুষ্টিও পাওয়া যায়। শাশলিক–জাতীয় পদে মাংসের সঙ্গে সবজি দিলে শিশুরাও আগ্রহ নিয়ে সবজি খেতে পারে।
খাদ্য হোক নিরাপদ
মাংস খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করতে হবে, নইলে জীবাণুর সংক্রমণ ও হজমের সমস্যা হতে পারে। কাঁচা ও রান্না মাংস আলাদা রাখুন। কাঁচা মাংসের সংস্পর্শে আসা পাত্র, ছুরি, বঁটি, চপিং বোর্ড ভালোভাবে না ধুয়ে অন্য খাবার রাখবেন না। কাঁচা মাংস ধরার আগে ও পরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। মাংস ছোট টুকরা করে রান্না করা ভালো।
পরিমিত পরিমাণে মাংস খান
পশুর মগজ, পায়া, পাঁজর, মজ্জা, মাথা, মাথার হাড়, গলা, ভুঁড়ি প্রভৃতিতে চর্বি বেশি থাকে। নেহারিতেও চর্বির পরিমাণ বেশি। রানের মাংস, কলিজা ও ফ্যাপসাও অতিরিক্ত খাবেন না। দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমস্যা (যেমন কোলেস্টেরল বেশি থাকা, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগ) থাকলে মাংস বা তেল-চর্বি খাওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ মেনে চলুন।



