বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে তিনটি স্থল মাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ সময় তাদের কোমর থেকে শরীরের নিচের অংশ উড়ে গেছে। রবিবার (২৪ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তিন জনের লাশ উদ্ধার করেছেন।
নিহতদের পরিচয়
মারা যাওয়া তিন জন হলেন- অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিংক্ষ্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) ও চপোচিং তঞ্চঙ্গ্যা ওরফে লেরাইয়া (৩৫)। তাদের সবার বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়ায়।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফলের বাগানে কাজ করার সময় তিনটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিস্ফোরণে শুরুতে এক বাগানচাষি গুরুতর আহত হন। সঙ্গীরা দৌড়ে তাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে আরেকজন গুরুতর আহত হন। আহত ওই দুজনকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনায় আরেকজন আহত হন। উপর্যুপরি তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় কাজ করতে যাওয়া লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পাড়ায় এসে সংবাদ দেয়। পাড়াবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন জনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
ঘুমধুম ইউনিয়নের সাবেক সদস্য বাবুল কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, ভালুকিয়াপাড়াসহ সীমান্তের কাছাকাছি মানুষ সবাই শূন্যরেখা বজায় রেখে ফলের বাগানসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করেন। এটি তাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র উপায়। গত বছরও বাগানের কাজ করতে গিয়ে দুজন নিখোঁজ হয়েছেন। এখনও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। বনে সবজি খুঁজতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে একজন নারী দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আগের দুজনের নিখোঁজ, পা হারানো ঘটনাসহ আজকের তিন জনের মৃত্যুতে সীমান্তের মানুষ আতঙ্কে আছেন।
তদন্তের প্রয়োজনীয়তা
নাইক্ষ্যংছড়ির দফাদার সৈয়দ আলম ও ঘুমধুমের গ্রাম পুলিশ রূপম বড়ুয়া জানিয়েছেন, ৪১ সীমান্ত পিলার এলাকায় ঘটনা ঘটলেও যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটি শূন্যরেখার ভেতরে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে এত শক্তিশালী স্থলমাইল কারা স্থাপন করেছে, তা তদন্ত হওয়া দরকার।
প্রশাসনের বক্তব্য
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান বলেন, ‘ঘুমধুম ইউনিয়নে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে কে মাইন পুঁতেছিল তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সীমান্তের নো-ম্যানস-ল্যান্ড এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।’



