রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর এলাকায় সেচঘর থেকে কৃষক মফিজার রহমানের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাত জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই দিন সেচের ট্রান্সমিটার চুরি করতে এসে বাধা দেওয়ায় মফিজারকে হত্যা করেছিল তারা। ঘটনার ১৮ দিন পর তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারসহ মালামাল উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য
রবিবার (২৪ মে) বিকালে রংপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি জানান, মফিজার রহমান হত্যাকাণ্ডটি ছিল ক্লুলেস। ডিবি ও থানা পুলিশ এবং পুলিশ সুপার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনাটি মনিটর করে খুনিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
গ্রেফতারকৃতরা
গ্রেফতারকৃতরা হলো- ডাকাত দলের সরদার জামিরুল ইসলাম, সদস্য আব্দুল জলিল, সবদুল আকন্দ শামীম, আব্দুল ওহাব ওরফে শফিকুল, নুরুল আমিন, আনিসুর রহমান ও আমিরুল ইসলাম সরদার।
ঘটনার বিবরণ
গত ৭ মে সকালে উমরপুর এলাকায় একটি সেচঘর থেকে ওই কৃষকের হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরদিন সকালে ঘটনাটি জানাজানি হয়। নিহত মফিজার রহমান উমরপুর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে। বিএডিসির সেচ ট্রান্সমিটার পাহারার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মফিজার রহমান ওই দিন রাতে উমরপুর মাঠে সেচঘরে পাহারা দিতে যান। পরদিন সকালে ওই এলাকার শহিদুল ইসলাম নামের এক কৃষক গরু নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় সেচঘরের দরজা খোলা ও ট্রান্সমিটার খোলা অবস্থায় দেখতে পান। পরে ভেতরে গিয়ে মফিজারের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
পুলিশি অভিযান
পুলিশ সুপার জানান, ৬ মে রাতে মফিজার রহমান সেচঘরে পাহারা দিতে যান। রাতে একদল ডাকাত অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে সেচের ট্রান্সমিটারসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল। এতে বাধা দিলে তাকে হাত-পা বেঁধে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন পীরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলার পর রংপুর জেলা ডিবি পুলিশ ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে পীরগঞ্জ, গাইবান্ধা ও জয়পুরহাটে অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের প্রধান জামিরুল ইসলামসহ সাত জনকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদ ও উদ্ধার
পুলিশ সুপার আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তারা কৃষককে হত্যা করে ট্রান্সমিটারসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডাকাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, একটি ট্রান্সমিটার উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও ট্রান্সমিটারের ভেতরে থাকা কয়েলও উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার সাত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে আজ।



