নরসিংদীতে দেশীয় গরুর সমাহার, লাইভ ওয়েটে কেজি ৬৫০ টাকা
নরসিংদীতে দেশীয় গরুর সমাহার, কেজি ৬৫০ টাকা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলার খামার ও হাটগুলোতে এখন দেশীয় গরুর সমাহার দেখা যাচ্ছে। শাহীওয়াল, সিন্ধি, দেশাল, ফ্রিজিয়ান, ক্রস ও ব্রাহমা জাতের গরুতে ভরে উঠেছে খামারগুলো। হাটের পাশাপাশি অনলাইনেও ৬৫০ টাকা কেজি দরে লাইভ ওয়েটে বিক্রি হচ্ছে এসব গরু। চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি থাকায় ক্রেতারা পছন্দের পশু বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

খামারিদের ব্যস্ততা ও প্রস্তুতি

জেলার বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় খামারগুলোতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু, মহিষ ও ছাগল মোটাতাজাকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে। কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি ও দানাদার প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে পশুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারি ও কৃষকেরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। গরুকে নিয়মিত গোসল করানো, খাদ্য সরবরাহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কাজ চলছে পুরোদমে।

লাইভ ওয়েটে বিক্রির নতুন পদ্ধতি

এবার নরসিংদীর কয়েকটি খামারে নতুনভাবে চালু হয়েছে লাইভ ওয়েট বা ওজন অনুযায়ী কেজি দরে গরু বিক্রির ব্যবস্থা। এতে ক্রেতারা সরাসরি গরুর ওজন অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন। খামারিদের দাবি, এই পদ্ধতিতে ক্রেতারা প্রতারণার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকছেন এবং তুলনামূলক কম খরচে পছন্দের পশু কিনতে পারছেন। ফলে দিন দিন এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর নরসিংদীর ছয়টি উপজেলায় কুরবানির জন্য মোট ৮৫ হাজার ৯০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। বিপরীতে জেলার চাহিদা ৭৮ হাজার ৬৪৫টি পশু। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার ২৬০টি পশু পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা পূরণে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খামারিদের প্রত্যাশা ও শঙ্কা

খামারিরা বলছেন, ভারতীয় গরু না আসলে এ বছর ভালো মুনাফা হবে। তবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের বেতন ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। হাম্বা ফার্মের ম্যানেজার ফারুক ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আমরা ২২০টি গরু প্রস্তুত করেছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যে লালন-পালন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ গরু বিক্রি হয়ে গেছে।’

গ্রিন এগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান আহসান শিকদার বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে আমরা গরু লালন-পালন করে আসছি। এ বছর ২শ গরু প্রস্তুত করেছি। ৪শ কেজির নিচের গরু ৫৫০ টাকা এবং ৫শ কেজির বেশি গরু ৬শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।’

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তদারকি

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগের চেয়ে এখন আমরা খামারিদের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ করছি। দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণের জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। খাদ্যে ক্ষতিকারক স্টেরয়েড বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার বন্ধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।’

খামারিদের প্রত্যাশা, দেশের বাইরে থেকে অতিরিক্ত পশু প্রবেশ না করলে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকলে এবার কুরবানির মৌসুমে ন্যায্যমূল্য পেয়ে তারা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন। নরসিংদীর গরুর চাহিদা শুধু স্থানীয় নয়, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলোতেও ব্যাপক।