পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে কক্সবাজারের টেকনাফের বিভিন্ন খামারে জমে উঠেছে কোরবানির পশু বেচাকেনা। এসব খামারে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বিশাল আকৃতির ‘লাল-সাদা বাদশা’ নামের দুটি গরু। যেগুলোর দাম হাঁকা হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা।
লাল বাদশা ও সাদা বাদশার দাম
উপজেলার লম্বরী এলাকার নুর অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে কালো, লাল, সাদা ও বাদামি রঙের শতাধিক গরু-মহিষ। গরুগুলোর নামও রাখা হয়েছে আকর্ষণীয়ভাবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকৃতির দুটি গরুর একটির নাম ‘লাল বাদশা’ আরেকটি ‘সাদা বাদশা’। যা সবার নজর কাড়ছে।
নুর অ্যাগ্রো ফার্মে ১৩০টি গরু ও ১৭টি মহিষ রয়েছে। বেশিরভাগ পশুর ওজন ১০ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ খামারে এসে গরু দেখছেন এবং আগ্রহ নিয়ে দাম যাচাই করছেন।
খামার মালিক জানান, প্রায় ১ হাজার কেজি ওজনের লাল বাদশার দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। আর ১২০০ কেজির সাদা বাদশার দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। তবে কিছু কম হলেও বিক্রি করে দেবেন।
অন্যান্য খামারে বড় গরু
এ ছাড়া কায়ুকখালী পাড়া এলাকার সাদ্দাম অ্যাগ্রো খামারেও রয়েছে বড় আকৃতির ‘প্রিন্স’ ও ‘মধু’ নামের দুটি গরু। যার দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। নুর অ্যাগ্রো ফার্মের পরিচালক আবদুল করিম বলেন, ‘মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ছোট-বড় সব ধরনের গরু-মহিষ খামারে রাখা হয়েছে। যাতে কোনও ক্রেতা এসে খালি হাতে ফিরে না যান। অন্য বছরের তুলনায় এবার খামারে শতাধিক কোরবানির পশু রয়েছে। বেচাকেনাও শুরু হয়েছে। এবার খরচও বেড়েছে। খামারে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তৈরি করেছে লাল-সাদা বাদশা। এদের দৈনিক খাবারের পেছনে খরচ হয় চার হাজার টাকা। এর মধ্যে সাদা বাদশার খাবার খরচ দুই আর লাল বাদশার দুই হাজারের মতো খরচ হয়।’
টেকনাফের খামার ও পশুর সংখ্যা
উপজেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে আড়াইশ খামার রয়েছে। এর মধ্যে বড় খামার অর্ধশতাধিক। এসব খামারে ১৮ হাজারের বেশি গরু, মহিষ, ছাগল আছে। উপজেলায় কোরবানির প্রাণীর চাহিদা রয়েছে ১০ হাজারের মতো।
এদিকে, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই টেকনাফের খামারগুলোতে বাড়ছে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভিড়। অনেকে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু করেছেন।
এদিকে মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে আসা গরুর কারণে খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় গরুগুলোতে বিভিন্ন সংক্রমণ ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন অনেক খামারি।



