জয়পুরহাটে বড় গরু নেই, ছোট-মাঝারির দিকে ঝুঁকছেন খামারিরা
জয়পুরহাটে বড় গরু নেই, ছোট-মাঝারির দিকে ঝোঁক

জয়পুরহাট শহরের নতুনহাটে আজ শনিবার কোরবানির পশুর হাট বসেছে। বিকেলের দিকে তোলা ছবি: প্রথম আলো

কোরবানির ঈদে বড় গরুর সংকট

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জয়পুরহাটের পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা জমতে শুরু করেছে। তবে এবার আগের মতো বিশাল আকৃতির ষাঁড় গরু খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। খামারিরা বলছেন, বড় গরু পালনে অতিরিক্ত খরচ হয়। কিন্তু সেই তুলনায় কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এখন ছোট ও মাঝারি আকারের গরু পালনের দিকে ঝুঁকছেন তাঁরা।

খামারিদের অভিজ্ঞতা

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার খামারি সাগর হোসেন ছয় বছর ধরে বিদেশি জাতের একটি বড় ষাঁড় গরু লালন-পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালের কোরবানির ঈদে গরুটির ওজন হয়েছিল প্রায় এক হাজার কেজি। সে সময় বিভিন্ন পাইকার তাঁর বাড়িতে গিয়ে গরুটির দাম সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছিলেন। কিন্তু আরও বেশি দামের আশায় তিনি গরুটি বিক্রি করেননি। শেষ পর্যন্ত ওই ঈদে গরুটি আর বিক্রি হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরে আরও এক বছর গরুটি লালন-পালন করে গত বছর ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে সেটি চার লাখ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন সাগর। অতিরিক্ত ওই এক বছরে গরুটির খাবার ও পরিচর্যায় আরও প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে বড় ধরনের লোকসানে পড়েন তিনি।

সাগর হোসেন বলেন, ‘বড় গরু পালতে অনেক খরচ। খাবারের দামও বেশি। আশা ছিল ভালো লাভ হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উল্টো লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন আর এত বড় গরু পালনের সাহস পাই না।’

শুধু সাগর হোসেন নন, জেলার অনেক খামারি ও গৃহস্থের অভিজ্ঞতাও একই। খড়, ভুসি, খইল ও কাঁচা ঘাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় গরু পালন এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের মধ্যেও বড় গরুর চাহিদা আগের তুলনায় কমেছে। অধিকাংশ ক্রেতা এখন তুলনামূলক কম দামের ছোট ও মাঝারি গরুর দিকে ঝুঁকছেন।

খামারি সুমন হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক বছর কোরবানির ঈদে বড় ষাঁড় গরু পালন করেছি। কিন্তু গ্রাহক কম ছিল, আবার কাঙ্ক্ষিত দামও মেলেনি। এ কারণে এবার খামারে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুই বেশি লালন-পালন করেছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাটের বর্তমান চিত্র

জয়পুরহাট পৌর শহরের নতুনহাটে আজ শনিবার কোরবানির পশুর হাট বসেছিল। সকাল থেকেই পশু কেনাবেচা হয়েছে। হাটটির ইজারাদার শামস মতিন বলেন, আগে হাটে অনেক বড় বড় গরু আসত। মানুষ শুধু দেখার জন্যও ভিড় করত। এখন খামারিরা বড় গরু আনতে ভয় পান। কারণ, বড় গরুর দাম ওঠে না। এবারও ছোট ও মাঝারি গরুর সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

জেলায় কোরবানির পশুর উদ্বৃত্ত

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত আছে। জেলায় ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৩টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে জেলার চাহিদা ২ লাখ ৩ হাজার ৩৫০টি। এর মধ্যে গরুর সংখ্যাই বেশি। ফলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলাতেও পশু সরবরাহের সম্ভাবনা আছে।

জয়পুরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মহির উদ্দিন বলেন, জেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। তবে খামারিরা এখন বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে ছোট ও মাঝারি গরু বেশি পালন করছেন। বড় গরু পালনে খরচ বেশি হওয়ায় ঝুঁকিও বেশি। এ কারণে আমরা খামারি ও গৃহস্থদের বড় গরু লালন-পালনে নিরুৎসাহিত করি।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও বলেন, এবার বিশাল আকৃতির কোরবানির পশুর সংখ্যা খুবই কম। আগের মতো ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ কেজি ওজনের গরু খুব একটা দেখা যাবে না। খামারিদের নিরাপদ ও লাভজনক পশু মোটাতাজাকরণ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন