সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে হাওরে ধান কাটা ব্যাহত, কৃষকদের উদ্বেগ
সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে হাওরে ধান কাটা ব্যাহত

সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টির কারণে নদ-নদী ও হাওরের পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা নতুন করে বিপাকে পড়েছেন। কাটা বোরো ধান সংগ্রহ, মাড়াই ও শুকানোর কাজ ব্যাহত হওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ও পানি বৃদ্ধি

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পাহাড়ি ঢল নামার আশঙ্কা রয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে তিন দিনে জেলায় ২৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে সুরমা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৭২ মিটার নিচে অবস্থান করছিল। প্রাক-বর্ষা মৌসুমে সুরমা নদীর বিপৎসীমা ৬ দশমিক ৫ মিটার।

পাউবোর বক্তব্য

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “সুনামগঞ্জ ও উজানে চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নদী ও হাওরের পানি আরও বাড়তে পারে। কৃষকদের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা আছে। তবে আপাতত বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি নেই।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষকদের ভোগান্তি

হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা জানান, বৈশাখের শুরু থেকেই অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে ধান ঘরে তোলায় ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে। কয়েক দিন রোদ থাকলেও আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কাটা ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “কিছুদিন রোদ থাকায় আশা ছিল ধান তুলতে পারব। কিন্তু আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এখন বাকি ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, টানা আবহাওয়ার অস্থিতিশীলতায় কৃষকেরা চরম সংকটে পড়েছেন। অন্তত এক সপ্তাহ টানা রোদ না মিললে অবশিষ্ট ধান ঘরে তোলা কঠিন হবে।

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১৪ লাখ টন। এ পর্যন্ত জেলায় গড়ে ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এখনো প্রায় ১৩ শতাংশ ধান মাঠে রয়েছে। এর আগে ১০ দিন আগের হিসাব অনুযায়ী, অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে প্রায় ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার আর্থিক ক্ষতি ৫০০ কোটি টাকার বেশি। তবে নতুন বৃষ্টির কারণে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

উল্লেখ্য, মার্চের মাঝামাঝি থেকেই সুনামগঞ্জে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর এপ্রিলের শেষ দিকে অতিভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার অধিকাংশ হাওরের বোরো ধান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।