যশোরের দানবাকৃতির গরু ‘বিসিএস ক্যাডার’ কুরবানির হাট কাঁপাবে
যশোরের ‘বিসিএস ক্যাডার’ গরু কুরবানির হাটে সাড়া ফেলেছে

ঈদুল আজহা আসন্ন। সারাদেশে কুরবানির প্রস্তুতি চলছে। এ বছর যশোরের একটি দানবাকৃতির গরু সবার নজর কেড়েছে। গরুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিসিএস ক্যাডার’। নাম শুনে অনেকেই হাসলেও এর পেছনে যথাযথ কারণ রয়েছে। গরুটির মালিক যশোর সদর উপজেলার সীতারামপুরের মহিদুল জামান কাজল।

দানবাকৃতির গরুর পরিচিতি

গরুটির গায়ের রং উজ্জ্বল, দেহ বিশাল এবং ভঙ্গি রাজকীয়। এটি একটি ব্রাহমা জাতের ষাঁড়। এর ওজন ১ হাজার কেজি। খামারি কাজল জানান, তিনি মাস দশেক আগে গরুটি ক্রয় করেন। অতি যত্নে লালন-পালন করায় এর নাম রেখেছেন ‘বিসিএস ক্যাডার’। খামারে ঢুকলেই প্রথম নজরে পড়ে এই বিশাল ষাঁড়টি। স্থানীয়রা প্রতিদিন এটি দেখতে ভিড় করছেন।

নামকরণের কারণ

গরুটির নাম ‘বিসিএস ক্যাডার’ রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে কাজল বলেন, ব্রাহমা জাতের এই গরুটি লালন-পালনে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। যেমন পরিশ্রম করতে হয় একজন ছাত্রকে বিসিএস ক্যাডার হতে। একজন ছাত্র ও তার অভিভাবকের কঠোর পরিশ্রম আর মানসম্মত প্রস্তুতির ফল যেমন বিসিএস ক্যাডার, তেমনই এই গরুটিও সেই মানের। এর পরিচর্যায়ও বাড়তি যত্ন নেওয়া হয়। শ্যাম্পু দিয়ে দুই বেলা গোসল, ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের বাতাস এবং মশার কামড় থেকে বাঁচাতে সার্বক্ষণিক কয়েলের ব্যবস্থা রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খামারের অন্যান্য গরু

কাজলের খামারে কুরবানির জন্য মোট ৪২টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ওজনের হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান (সাদা-কালো) গরুটির ওজন ১ হাজার ১০০ কেজি। এর দাম ১১ লাখ টাকা। এছাড়া পাকিস্তানের শাহীওয়াল জাতের একটি গরু রয়েছে, যার ওজন ৮৭৫ কেজি এবং দাম সাড়ে ৮ লাখ টাকা।

দাম ও ক্রেতাদের আগ্রহ

‘বিসিএস ক্যাডার’ গরুটির দাম চাওয়া হয়েছে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অনেকেই গরুটি দেখতে ও কিনতে বাড়িতে ভিড় করছেন। তবে এখনও কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি বলে জানান কাজল। তিনি বলেন, গরুটি এ বছর বিক্রি না হলেও কোনো সমস্যা নেই।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাকৃতিক খাবার ও খরচ

খামারের সব গরু প্রাকৃতিক খাবার খায়। খাবারের তালিকায় রয়েছে রাইস পলিশ বা কুঁড়ো, গম, ভুট্টা বা বুটের ভুষি, ছোলা ও ভুট্টা ভাঙা, কাঁচা ঘাস, বিচালি, সয়াবিন ও সরিষার খৈল, লবণ ইত্যাদি। প্রতিদিন খামারের গরুর জন্য ব্যয় হয় প্রায় ১২ হাজার টাকা।

খামারি পরিচিতি

মহিদুল জামান কাজল পেশায় সমবায় অধিদপ্তরের অডিট অফিসার। ২০১৭ সালে মাত্র ৫টি গরু নিয়ে খামার শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে মোট ৪২টি গরু রয়েছে। কুরবানির ঈদ সামনে রেখে তিনি সব গরু প্রস্তুত করেছেন।

জেলায় কুরবানির পশুর পরিস্থিতি

জেলা পশুসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কুরবানির জন্য হৃষ্ট-পুষ্ট গবাদিপশুর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি। এ বছর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ১২৮টি। উদ্বৃত্ত থাকছে ১৪ হাজার ৮৪৯টি। যশোর জেলায় খামারির সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৪০ জন। হৃষ্ট-পুষ্ট ষাঁড়ের সংখ্যা ২৮ হাজার ৮৪৪টি, বলদ ৯৫৭টি, গাভী ৩৬ হাজার ২৫৯টি। ছাগলের সংখ্যা ৮১ হাজার ২৭৬টি এবং ভেড়া ৪৪২টি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান জানান, জেলায় কুরবানির চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় পশু সরবরাহ করা যাবে। সাধারণত চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনায় যায় এখানকার খামারিদের পশু। অনেক খামারি খাবারের দাম বেশি হওয়ায় হৃষ্ট-পুষ্টকরণে খরচ বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন। তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দানাদার খাবারের চাপ কমিয়ে বেশি করে সবুজ ঘাস খাইয়ে পশু হৃষ্ট-পুষ্ট করতে। এ ছাড়া বিজিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এবারও ভারতীয় গরু আসছে না।