বদলে গেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, বাহারি ফুলে মুগ্ধতা
বদলে গেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, বাহারি ফুলে মুগ্ধতা

দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি অন্যতম। চিরচেনা এই সড়কটি এখন বদলে গেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক দিকনির্দেশনায়। যেখানে আগে বিআরটি প্রকল্প এলাকাজুড়ে ছিল অন্ধকার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সেখানে এখন ফুলের সমারোহ। সাধারণ মানুষের চলাচলের ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা; চোর, ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের আড্ডা ছিল জমজমাট। পথচারীদের প্রাণ দিতে হয়েছে অপরাধীদের হাতে। যানজট, গাড়ির হর্ন, যাত্রী ও যানবাহনের কোলাহলের মধ্যেই পরিচিত ছিল এই সড়কটি। সম্প্রতি সেই ব্যস্ততম সড়কটিতে মিলছে একটু স্বস্তির আবহ।

সৌন্দর্যবর্ধনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ

বিপজ্জনক এলাকাটি পুরোপুরি বদলে দিতে উদ্যোগ নেয় গাজীপুর সিটি করপোরেশন। গ্রিন সিটি ক্লিন সিটি গড়ার লক্ষ্যে চলে মহাসড়কে সৌন্দর্যবর্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ চলাচল এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সিটি প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার সরাসরি এ কাজের তদারকি করছেন। ক্রমশ তাতেই বদলে যাচ্ছে মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক এলাকাটি।

সড়কের জমানো আবর্জনা পরিষ্কার করে এলাকাজুড়ে রোপণ করা হয়েছে নানা রঙের ফুলের চারা। রঙের তুলিতে সাজানো হয়েছে স্বপ্নের আঙিনা। ইট-পাথরের সড়কে শিল্পীর তুলিতে সাজানো হয়েছে মন মুগ্ধকর এক ফুলের রাজ্য। যেন চলার পথে হঠাৎ থমকে দাঁড়াবে পথিক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিকল্পিত নগর গড়তে উন্নয়ন কাজ অব্যাহত

পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়তে এবং জনস্বার্থে সব ধরনের উন্নয়ন কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের সিটি (গাসিক) প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। গাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ কুমার বসাক বলেন, টঙ্গী থেকে শুরু করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার মহাসড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে সৌন্দর্য বর্ধনের আওতায় আনা হবে। মহাসড়কের দুই পাশের কিছু এলাকাতে পাতাবাহারসহ বিভিন্ন জাতের ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে চিরসবুজ ভাওয়ালের ওই বিশাল শাল-গজারির বুক চিরে ফুলেরা এখন মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। প্রতিদিন অনেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন এখানে।

পথচারী ও চালকদের মুগ্ধতা

ভাওয়াল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাসেল মিয়া বলেন, রাস্তার মাঝখানে সারি সারি মন মুগ্ধকর ফুল দেখতে খুব ভালো লাগে। যেখানে অসচেতন কিছু মানুষ উচ্ছিষ্ট বর্জ্য এনে ডিভাইডারে ফেলত, সেখানে এখন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ দেখে খুব ভালো লাগছে। অনেকেই মোবাইলে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করছেন। ভাইরাল করছে জাপানের চেরি ব্লসমের সঙ্গে তুলনা করে।

অপরদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা যানবাহনের চালকরা যাত্রীদের প্রতি নজর না দিয়ে নজর দিচ্ছে সড়ক বিভাজকের মাঝখানে। ফুলের ওই অপরূপ দৃশ্য দেখে শুধু যাত্রী ও চালকরাই নন, আশপাশের এলাকার দর্শনার্থীরাও ছুটে আসছেন সড়কে।

সরেজমিন দেখা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার পথজুড়ে চোখে পড়বে মহাসড়কের দুই পাশে ভাওয়াল শাল-গজারির বুক চিরে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। ওই মহাসড়কের বিভাজকের মাঝে নানা রঙের ফুলের সমাহার। দেখলে মনে হবে চলাচলকারীদের যেন অভ্যর্থনা জানাচ্ছে লালচে গোলাপি ও সাদার সংমিশ্রণযুক্ত ফুলগুলো। কাছে যেতেই যে কারও ইচ্ছা করবে এক মুহূর্তের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াতে। অনেকে আকৃষ্ট হয়ে গাড়ি থামিয়েই ফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন।

বর্ণিল ফুলের সমারোহ

যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে ইট-পাথরের শহর ছেড়ে বেরিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আসলেই চোখে পড়বে ডিভাইডারের ওপর সবুজের সমারোহে বিভিন্ন ফুলের বর্ণিল ঘনঘটা। তা দেখে পরিবহণ যাত্রীদের মন-প্রাণ দুই-ই জুড়ায়। মহাসড়কে ভ্রমণ আনন্দদায়ক ও পরিবেশবান্ধব করতে ঋতুর সঙ্গে মিল রেখে এসব প্রজাতির গাছ এবং ঋতুভিত্তিক ফুলগাছ রোপণ করা হয়েছে। আর কিছু প্রজাতির গাছ বড় হয়ে যাওয়ায় ওই গাছের ছায়ায় পথচারীরা বিশ্রাম নিতে পারছে।

জানা গেছে, ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চার লেনের ডিভাইডারের ওপর ফুলের বাগানে রয়েছে নীল কাঞ্চন, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, জোড়া টগর, রাধাচূড়া, অগ্নিশ্বর, পলাশ, গৌরীচূড়া, কনক চূড়া, কনক চাঁপা, কদম, কাঠ বাদাম, জারুল, রক্ত করবী ও জাপানি চেরি গোত্রের ক্যাসিয়া রেনিজেরা। প্রতি বছর পলাশ, জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, বাগানবিলাস, কদম, বকুল ও জবা ফুল ফুটে মুগ্ধ করে যাত্রীদের। গত বছর কিছু গাছে অল্প করে জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরা ফুল ফুটেছিল। এবারো ফুটেছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান

গাজীপুরের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহাম্মেদ বলেন, মহাসড়ক দৃষ্টিনন্দন করতে এখানে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার চারা রোপণ করা হয়। ২-৫ মিটার প্রস্থের স্থানে ৩টি সারিতে এবং ১-২ মিটার প্রস্থের স্থানে ১টি সারিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধনে এগুলোর পরিচর্যাও করা হয়। ইতোমধ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় গাছগুলো যাত্রীদের নজর আকৃষ্ট করছে। গাছগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে অবদান রাখবে। পথচলায় চালক ও যাত্রীরা অন্যরকম এক অনুভূতি পাবে।