সিরাজগঞ্জে স্কুলের নাস্তা খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি
সিরাজগঞ্জে নাস্তা খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিতরণ করা নাস্তা খেয়ে ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ে দুপুরের নাস্তা হিসেবে পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করা হয়েছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, পাউরুটিতে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ ছিল। নাস্তা গ্রহণের কিছুক্ষণ পরই তাদের পেটব্যথা, বমি বমি ভাব ও শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

প্রধান শিক্ষকের বিবরণ

বেলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, "আমাদের বিদ্যালয়ে সকাল ও বিকাল—দুই শিফটে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সকাল শিফটের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ছুটি হয় দুপুর ১২টার দিকে এবং তাদের নাস্তা দেওয়া হয়। এরপর দুপুর ১২টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাশ শুরু হয়। নাস্তা বিতরণের পর ৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা দ্রুত তাদের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসকের বক্তব্য

বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুদীপ সরকার বলেন, "দুপুরের দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী পেটব্যথার অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা পর্যবেক্ষণে রয়েছে। নাস্তা হিসেবে বিতরণ করা পাউরুটির নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, "বেলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাস্তা খেয়ে অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে আমি দ্রুত হাসপাতালে যাই। সেখানে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছি এবং চিকিৎসার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। একই সঙ্গে বিতরণকৃত খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।"

অভিভাবকদের ক্ষোভ

হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা গরিব মানুষ। আমাদের সন্তানদের ভালোভাবে লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই। বিদ্যালয়ে নাস্তা পেলে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আমাদেরও কিছুটা আর্থিক সাশ্রয় হয়; কিন্তু সেই খাবার খেয়ে যদি শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমরা চাই, শিশুদের জন্য সরবরাহ করা সব খাবার কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে বিতরণ করা হোক।" তারা আরও বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন খাদ্যের মান নিশ্চিত করে সেই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

পাউরুটির উৎস নিয়ে প্রশ্ন

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা পাউরুটির উৎস ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে গাক এনজিও ও কার্নেল বেকারির সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তদন্ত কমিটি গঠন

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, "ঘটনার খবর পেয়ে আমি দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছি এবং চিকিৎসার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। একই সঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

ঘটনার পর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছেন। পরীক্ষাগারের রিপোর্ট ও তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।