যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের উল্লম্ফনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবে দেখা যায়নি। বরং জুন মাসে দেশটির রেস্তোরাঁ, বার ও হোটেল খাতে কর্মসংস্থান কমেছে।
কর্মসংস্থানের তথ্যে বিস্ময়
বিশ্লেষকেরা ধারণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপের কারণে অবকাশ ও আতিথেয়তা খাতে চাকরি বাড়বে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের (বিএলএস) তথ্য বলছে, জুনে এ খাতে ৬১ হাজার চাকরি কমেছে।
সার্বিকভাবে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে ৫৭ হাজার, যদিও তা বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে কম। বেকারত্বের হার সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
বিশ্বকাপের প্রভাব উল্টো
বিএলএসের আগের প্রতিবেদনে মে মাসে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। সে সময় বিশ্বকাপ সামনে রেখে বার ও রেস্তোরাঁগুলো অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ শুরু করেছিল।
এ ছাড়া গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকেরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের প্রভাবে জুনে প্রায় ৪০ হাজার অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভ্রমণকারী ফুটবল-সমর্থকদের ভিড়ে বারগুলো জমজমাট থাকার খবর এলেও জুনে এই খাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি উল্টো নেতিবাচক হয়ে যায়।
অর্থনীতিবিদের প্রতিক্রিয়া
বহুজাতিক আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আইএনজির প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ জেমস নাইটলি বলেন, অবকাশ ও আতিথেয়তা খাতই জুনের কর্মসংস্থানের তথ্যের সবচেয়ে দুর্বল দিক। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ চলছে, বার ও বিভিন্ন ভেন্যুতে ব্যাপক ভিড়। এমন পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান কমে যাওয়া বড় ধরনের বিস্ময়।’
জেমস আরও বলেন, ‘স্বীকার করতে হবে, মে মাসে এ খাতে ৪৪ হাজার চাকরি বেড়েছিল। তারপরও জুনের ফলাফল অপ্রত্যাশিত।’
তথ্য সংশোধন
বৃহস্পতিবারের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে আগের মাসগুলোর তথ্যও সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত হিসাবে দেখা গেছে, এপ্রিল ও মে মাসে নতুন কর্মসংস্থান আগের হিসাবের তুলনায় মোট ৭৪ হাজার কম ছিল।
জেমস নাইটলির মতে, জুনে প্রত্যাশার চেয়ে কম কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আগের মাসগুলোর তথ্য নিম্নমুখী সংশোধন থেকে ভিন্ন প্রবণতা বোঝা যাচ্ছে। সেটা হলো, গত তিন মাসে কর্মসংস্থানের যে উন্নতি দেখা গিয়েছিল, তা নতুন কোনো ধারাবাহিক প্রবণতার সূচনা না–ও হতে পারে।
সুদের হারের সম্ভাবনা
জেমস আরও বলেন, সর্বশেষ এই পরিসংখ্যানের কারণে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও কমে গেছে।
ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসান্না স্ট্রিটার বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে তথাকথিত ‘গোল্ডিলক্স’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। এর অর্থ হলো, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান জারি থাকে, কিন্তু অর্থনীতি এতটা চাঙা হয় না যে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায় বা নীতি সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে। আবার প্রবৃদ্ধি এত দুর্বলও হয় না যে মন্দার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সুসান্না আরও বলেন, সুদের হার একাধিকবার বাড়বে, এমন প্রত্যাশা এখন দ্রুত কমে যাচ্ছে। আগামী বছরে একবার সুদের হার বাড়বে—এমন সম্ভাবনাই এখন বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বাজার এখন এমনটাই মনে করছে।



