বিসিএসের অতিমাত্রায় আসক্তি তরুণদের জীবনের বড় সময় গ্রাস করছে: ডা. জাহেদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তরুণ প্রজন্মকে বিসিএসের 'অসুখ' থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের আয়োজনে 'গ্রিডলক থেকে শাসনব্যবস্থার নবায়ন: বিপিএসসি সংস্কার প্রতিবেদন' শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান।
বিসিএসের প্রতি তরুণদের অতিরিক্ত মনোযোগ নিয়ে উদ্বেগ
ডা. জাহেদ উর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, 'অনেক তরুণকে দেখা যায় ভালো চাকরি রেখেও চাকরির বয়স যত দিন আছে, তত দিন বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন। আবার অনেককে বিসিএস পরীক্ষা দিতে দিতে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের টেবিলে বিসিএসের বই দেখা যায়। তরুণদের জীবনের বড় একটা সময় খেয়ে ফেলছে বিসিএস। এই 'অসুখ' থেকে বের হতে হবে।'
বিসিএস পরীক্ষা কঠোর করা ও বয়সসীমা কমানোর আহ্বান
তিনি বিসিএস পরীক্ষা আরও প্রতিযোগিতামূলক করার পাশাপাশি অংশগ্রহণের বয়স কমানোরও আহ্বান জানান। ডা. জাহেদ বলেন, 'বিসিএসে ইনসেনটিভ কমাতে হবে। বয়সসীমাও কমানোর পাশাপাশি পরীক্ষা আরও হার্ড করতে হবে। অনেক তরুণ বুঝে না, পরীক্ষা হার্ড করলে তাদের লাভ। কারণ, একবার পরীক্ষা দিয়ে যখন দেখবে সে বিসিএসের যোগ্য নয়, তখন অন্য পথে যাবে। এটা করতে গিয়ে অনেকের বিরাগভাজন হতে হবে।'
ভাইভা বোর্ডের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার
বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, 'কিছুদিন বিসিএসের ভাইভা বোর্ডে ছিলাম। তখন অনেক পরীক্ষার্থীকে তার মেজর বিষয় থেকে প্রশ্ন করেছি, কিন্তু ভালো উত্তর পাইনি।' তিনি আরও যোগ করেন যে শুধু ছোটখাটো পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন হলে কঠোর ও 'সার্জারির মতো' সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, 'সব ডিজিজে মেডিসিন কাজ করে না, মাঝেমধ্যে সার্জারিও লাগে। সার্জারি পেইনফুল হলেও কার্যকর। তাই মাঝেমধ্যে কিছু পেইনফুল সময়ের মধ্যে নিয়ে যেতে হবে। এতে অনেকের হয়তো অপ্রিয় হতে হবে।' তার মতে, তরুণদের বিসিএসের পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে বিকল্প পথে এগিয়ে যাওয়া উচিত।
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। ডা. জাহেদের এই বক্তব্য তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিসিএসের প্রতি মনোভাব পুনর্মূল্যায়নের বার্তা দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



