শ্রম আইন সংশোধন: ট্রেড ইউনিয়ন সংখ্যা কমিয়ে তিনটি, শ্রমিক সংগঠন অসন্তুষ্ট
জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল পাস হয়েছে, যা বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের কিছু ধারা পরিবর্তন করেছে। এই সংশোধনীতে প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় সর্বোচ্চ ট্রেড ইউনিয়ন সংখ্যা পাঁচ থেকে কমিয়ে তিনটি করা হয়েছে, যা আগের আইনের সঙ্গেও মিলে যায়।
শ্রমিক সংজ্ঞায় পরিবর্তন ও ভবিষ্য তহবিল সহজীকরণ
অধ্যাদেশে শ্রমিকের সংজ্ঞায় কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু পাস হওয়া বিলে এই শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্য তহবিল করার ক্ষেত্রে মালিকদের জটিলতা কমানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন স্থায়ী শ্রমিক থাকলে ভবিষ্য তহবিল বাধ্যতামূলক, তবে দুই-তৃতীয়াংশ কর্মী জাতীয় পেনশন স্কিম ‘প্রগতি’তে আবেদন করলে প্রতিষ্ঠান ভবিষ্য তহবিল থেকে অব্যাহতি পাবে।
শ্রমিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার অভাব
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মালিকপক্ষের আপত্তিগুলো সরকার পরিবর্তন করেছে, কিন্তু শ্রমিক সংগঠনের আপত্তি আমলে নেওয়া হয়নি। ট্রিপার্টাইট কনসালটেটিভ কমিটির (টিসিসি) সভায় চূড়ান্ত করা সংশোধনী রাতারাতি পরিবর্তন আন্তর্জাতিক আইনানুগ প্রক্রিয়ার অবজ্ঞা।’ একাধিক শ্রমিকনেতা দাবি করেন, মালিকপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী শ্রম অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়েছে, এবং টিসিসির সভায় এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
মালিকপক্ষের মতামত ও ভবিষ্যত সংশোধনের সম্ভাবনা
নিট পোশাকশিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘টিসিসির ঐকমত্য এড়িয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংশোধনের অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু সব কটির সংশোধন হয়নি। এখনো কিছু অস্পষ্টতা রয়ে গেছে, যা শ্রম বিধিমালায় পরিষ্কার করতে হবে।’ তিনি ভবিষ্যতে আবার আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
অন্যান্য সংশোধনী ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
পাস হওয়া বিলে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশের অন্যান্য পরিবর্তনগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যেমন:
- ‘মহিলা’ শব্দের পরিবর্তে ‘নারী’ শব্দ প্রতিস্থাপন
- ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন করার বিধান
- তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠন
- মাতৃত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন
- বার্ষিক উৎসব ছুটি ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিন
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, ‘শ্রম আইনের সংশোধনের পর সেটি বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে, না হলে শ্রমিকেরা কোনো সুফল পাবেন না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বিরোধী দল সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনা করেনি, এবং সরকারের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করতে পারে।



