সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অর্থমন্ত্রীর
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের দিকনির্দেশনা নিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের সময় ও সিদ্ধান্তের গোপনীয়তা
অর্থ মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে, বেলা দেড়টার কিছু সময় পরে শুরু হয়ে বেলা ৩টার আগে বৈঠকটি শেষ হয়। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, বা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন, সে বিষয়ে সাংবাদিকরা অবহিত হতে চাইলে কেউই কোনও কথা বলেননি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (বেলা ৩টা ২৮ মিনিট) এ বিষয়ে জানতে গনমাধ্যমের কর্মীরা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে তার দফতরে অপেক্ষা করছেন।
নতুন পে-স্কেলের দাবিতে কর্মসূচি
জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ডাকে ৬ দিনের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচি সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং নতুন বেতন কাঠামোর দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জোরদার হচ্ছে।
জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি জাতীয় বেতন কমিশন তাদের প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করে। এই সুপারিশটি সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে, তবে বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়সীমা ও পদ্ধতি
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন এখন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনাই বেশি। প্রথমে মূল বেতন কার্যকর করা এবং পরে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে। এই ধাপে ধাপে পদ্ধতি সরকারের আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবে কর্মচারীদের প্রত্যাশা পূরণে বিলম্বের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
অর্থমন্ত্রীর এই বৈঠক নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।



