সাভারে গার্মেন্ট শ্রমিকের আত্মহত্যা: চাকরি হারানো ও মামলার চাপে হতাশা
সাভারে গার্মেন্ট শ্রমিকের আত্মহত্যা, চাকরি হারানো ও মামলা

সাভারে গার্মেন্ট শ্রমিকের আত্মহত্যা: চাকরি হারানো ও মামলার চাপে হতাশা

সাভার পৌরসভা এলাকার মজিদপুরে এক গার্মেন্ট শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় কাঁঠালবাগান জামে মসজিদের পাশে মিলটনের বাড়ি থেকে মৃত সাগর জোয়াদ্দারের (৩২) লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি রাজবাড়ী জেলার চন্দিপুর থানার মজিবর রহমানের ছেলে বলে পরিচিত।

চাকরি হারানো ও মামলার চাপ

জানা যায়, সাগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১ এর আওতায় সাভার থানাধীন মজিদপুর এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি সাভারের বিরুলিয়া রোডে অবস্থিত গ্লোভাল আউটওয়্যার লিমিটেডে (আজিম গ্রুপ) কর্মরত ছিলেন। মাত্র কয়েক দিন আগে তাকে শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। এছাড়া গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় তিনি একজন আসামি ছিলেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, চাকরি চলে যাওয়া ও মামলার আসামি হওয়ায় বেশ কয়েক দিন ধরে সাগর হতাশায় ভুগছিলেন। এই চাপই তার আত্মহত্যার পেছনে প্রধান কারণ হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বর্ণনা ও তদন্ত

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার এসআই মতিয়ার বলেন, "দুপুরে খবর পেয়ে শিকল লাগানো শয়নকক্ষ থেকে রশিতে ঝুলে থাকা সাগরের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে সাভার মডেল থানায় নিয়ে আসি।" এ সময় তার স্ত্রী মিতু আল-মুসলিম গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তাদের একটি সন্তান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাত ৮টায় লাশ নিয়ে রাজবাড়ী রওনা দিয়েছেন স্বজনরা।"

সাভার মডেল থানার ওসি ইমরান আলি জানান, "দুপুর ২টায় মো. সাগর জোয়াদ্দার নামের গার্মেন্ট শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। সে আত্মহত্যা করেছে বলে জেনেছি, একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন- তা এসআই মতিয়ার তদন্ত করে দেখছেন।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রহস্য ও সমালোচনা

ময়নাতদন্ত ছাড়াই থানা থেকে তার লাশ দিয়ে দেওয়ায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, হঠাৎ আত্মহত্যার ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রয়োজন ছিল কিনা। এই ঘটনা গার্মেন্ট শ্রমিকদের চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার দিকটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

শ্রমিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে চাকরি হারানো এবং কর্তৃপক্ষের মামলার শিকার হওয়ার মতো ঘটনাগুলো গার্মেন্ট খাতের কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। সাগরের পরিবার ও সহকর্মীরা এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।