রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পে কর্মীদের অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা ওভারটাইমের অনুমতি
পোশাক শিল্পে কর্মীদের অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা ওভারটাইম অনুমতি

রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পে কর্মীদের অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা ওভারটাইমের অনুমতি

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে কর্মীদের অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা ওভারটাইম কাজ করানোর অনুমতি পেয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৩০ মার্চ জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই অনুমতি প্রদান করেছে।

ছয় মাসের জন্য কার্যকর অনুমতি

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অনুমতি চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, এই সময়কালে পোশাক শিল্পের কারখানাগুলো সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে কর্মীদের ওভারটাইম কাজ করাতে পারবে।

শ্রম আইনের ধারা সাময়িক স্থগিত

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১০০, ১০২ এবং ১০৫ ধারার প্রযোজ্যতা পোশাক শিল্পে সাময়িকভাবে স্থগিত (মওকুফ) করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, এই সময়ের মধ্যে কারখানাগুলো কর্মীদের ওভারটাইম কাজ করাতে পারবে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর বিধিনিষেধের বাইরে থেকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রম আইনের বিধানাবলি

শ্রম আইনের ১০০ ধারা অনুযায়ী, সাধারণত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীকে দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যায় না। তবে, ১০৮ ধারার বিধান অনুসারে, বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা কাজ করা যেতে পারে। আইনে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, সাধারণভাবে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীকে সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যায় না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যদিও বিশেষ ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে, তবে কোনো সপ্তাহে মোট কাজের সময় ৬০ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না এবং বছরে গড়ে সাপ্তাহিক কাজের সময় ৫৬ ঘণ্টার বেশি হওয়া যাবে না। তবে, সরকার জনস্বার্থে বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লিখিত আদেশের মাধ্যমে যেকোনো শিল্প খাতে এই বিধান শিথিল করতে পারে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তির বিবরণ

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের ছাড় একবারে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য দেওয়া যেতে পারে। এই সিদ্ধান্তটি পোশাক শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এই অনুমতি প্রদানের মাধ্যমে সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পের চাহিদা পূরণে উদ্যোগী হয়েছে। পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

এই পদক্ষেপের ফলে কারখানাগুলো তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন শ্রম অধিকার কর্মীরা।