ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে গাজীপুরের কারখানায় ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য, খুলেছে ২ হাজার ১০০টি পোশাক কারখানা
ঈদ ছুটি শেষে গাজীপুরের কারখানায় ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে গাজীপুরের কারখানায় ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ১০ দিনের ছুটি শেষে শিল্পনগরী গাজীপুর আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে। রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি এনেছে।

কারখানা খোলার পরিসংখ্যান ও শ্রমিকদের প্রত্যাবর্তন

গাজীপুরে মোট ২ হাজার ৭৫৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ১০০টি পোশাক কারখানা রোববার খুলেছে। এই কারখানাগুলোতে প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন, যারা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন। অধিকাংশ কারখানায় টানা ১০ দিনের ছুটি ছিল, এবং ছুটি শেষে আজ থেকে এসব কারখানা পুরোদমে চালু হয়েছে।

সকাল থেকেই বিভিন্ন কারখানার সামনে শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থলে পৌঁছেছেন। এছাড়াও, ঈদের ছুটিতে গার্মেন্টস এলাকায় ও মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠা ভাসমান দোকানপাটে নীরবতা ভেঙে মানুষের চাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে, যা স্থানীয় বাণিজ্যকে সক্রিয় করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

কাজের পরিবেশে ফিরে শ্রমিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য বেতন-ভাতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তারা আরও উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে পারবেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও শ্রমবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও কর্মপরিবেশের বিভিন্ন দিক জোরদার করা হয়েছে।

মোগড়খাল এলাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা সৈয়দ হাসান সোহেল বলেন, "শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। এ পর্যন্ত কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। তারা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারছেন।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ আশা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন শ্রমিক ও মালিক উভয়পক্ষই। ঈদপরবর্তী এই স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন তারা।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, "রোববার থেকে গাজীপুরে শতভাগ কারখানা ঈদের ছুটি শেষে চালু হয়েছে। কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে, যা স্থানীয় শিল্পখাতের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক সংকেত।"

এই পুনরুজ্জীবন শুধু গাজীপুর নয়, সারাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। শ্রমিকদের ফিরে আসা এবং কারখানার সক্রিয়তা রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে, যা সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।