শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫) দ্রুত আইনে পরিণত করার দাবিতে টাফের মানববন্ধন
শ্রম অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার দাবিতে টাফের মানববন্ধন

শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫) দ্রুত আইনে পরিণত করার দাবিতে টাফের মানববন্ধন

শ্রমিক অধিকার ও শ্রম খাতের সংস্কারের দাবিতে শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫) দ্রুত আইনে পরিণত করার জোরালো আহ্বান জানিয়ে আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ)। শনিবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জাতীয় সংসদ ও সরকারের প্রতি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের দাবি উত্থাপন করা হয়।

বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের অংশগ্রহণ

টাফের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন:

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান আশরাফ
  • টাফের যুগ্ম সম্পাদক আলীফ দেওয়ান
  • হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়া
  • রিকশা-ভ্যানচালক শ্রমিক সংহতির বেলাল হোসাইন
  • নারী সংহতির অপরাজিতা দেব
  • আউটসোর্সিং শ্রমিক কর্মচারী পরিষদের নুরুল হক

সভা পরিচালনা করেন টাফের নেতা অঞ্জন দাস

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অধ্যাদেশের গুরুত্ব ও জরুরি অবস্থা

বক্তারা উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে শ্রম অধ্যাদেশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশের বৃহৎ শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান, অধিকার ও নিরাপত্তার সাথে সরাসরি জড়িত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের আলোচনার ভিত্তিতে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে।

তাঁরা সতর্ক করে বলেন, অধ্যাদেশটি এখন সংসদে আইনে রূপ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি পাস না হলে বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঈদের পরবর্তী সংসদ অধিবেশনেই দ্রুত এটি আইন হিসেবে পাস করার দাবি জানানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অধ্যাদেশের মূল সংস্কার প্রস্তাবনা

নেতারা জানান, সংশোধিত অধ্যাদেশে মোট ১২৫টি ধারা পরিবর্তন ও সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:

  1. শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের শর্ত সহজ করা
  2. গৃহশ্রমিকদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান
  3. মাতৃত্বকালীন ও উৎসব ছুটি বৃদ্ধি
  4. তিন বছর পরপর ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ
  5. যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন

তাঁদের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি শিল্প খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক পরিবেশে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং শ্রম খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি কমবে।

সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা

বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, কোনো অজুহাতে এই অধ্যাদেশ আইনে রূপ নিতে ব্যর্থ হলে তা হবে সরকারের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে তাসলিমা আখতার বলেন, ‘শ্রমিক অধিকার ও শ্রম খাতের সুরক্ষায় শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫) দ্রুত আইনে পরিণত করা জরুরি। তাই সরকারের কাছে এটা আইনে পরিণত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।’

এই মানববন্ধনটি শ্রমিক অধিকার রক্ষায় একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের শ্রম আইন ও নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে।