শ্রম অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫) শিগগিরই আইনে পরিণত না হলে তারা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানবন্ধন থেকে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়।
দীর্ঘদিনের দাবি ও ক্ষোভের প্রকাশ
মানবন্ধনে বক্তারা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে না নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, অন্তবর্তী সরকারের করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে শ্রম আইন সংশোধন (২০২৫) অধ্যাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এই অধ্যাদেশটি সংসদের ৩০ দিনের মধ্যে পাস করে আইনে পরিণত করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল, যা এখনো পূরণ হয়নি।
অধ্যাদেশের মূল বৈশিষ্ট্য ও প্রণয়ন প্রক্রিয়া
বক্তারা বিশদভাবে বর্ণনা করেন যে, এই অধ্যাদেশে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার শর্ত শিথিল করাসহ মোট ১২৫টি ধারা সংশোধন ও প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি শ্রমসংস্কার কমিশনের সুপারিশের প্রতিফলন হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
একইসঙ্গে, জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের মাধ্যমে শ্রমিক-মালিক-সরকার তিন পক্ষের প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে করা কাজের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি প্রণয়ন হয়েছে। এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার ফল, যা এখন নির্বাচিত সংসদ এবং সরকারের কাছে আইন হিসেবে পাস করার জন্য জরুরি আহ্বান পেয়েছে।
নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকারী সংগঠন
মানবন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান ও শ্রম সংস্কার কমিশন (২০২৪) এর সদস্য তাসলিমা আখতার। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন:
- ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আলীফ দেওয়ান
- নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা দেব
- বহুমুখী শ্রমজীবী সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভুইয়া
- হাতিরঝিল রিকশা-ভ্যান শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান বেলাল
- হাতিরঝিল সিএনিজ অটোরিক্সা শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান শাহাদাত হাওলাদার
- কার ইউনিয়ন শ্রমিক সংহতির সংগঠক শহীদ
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তারা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। এই হুঁশিয়ারি শ্রম খাতের সুরক্ষা ও সংস্কারের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দাবি হিসেবে উঠে এসেছে, যা সরকারের দ্রুত মনোযোগ দাবি করছে।



