আশুলিয়ায় গার্মেন্ট শ্রমিকদের সমাবেশ: সময়মতো বেতন-বোনাস ও নারী নিরাপত্তার দাবি
শুক্রবার আশুলিয়ায় বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্যের আয়োজনে এক সমাবেশে পোশাকশ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের বেতন ও ঈদ বোনাস সময়মতো প্রদান, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালু, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সমান অংশগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে সপ্তাহের ছুটির দিনে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই সমাবেশ ও র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল।
সমাবেশে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ
সমাবেশে বক্তারা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রপ্তানিখাতে কর্মরত শ্রমিকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানের ওপর জোর দেন। তারা উল্লেখ করেন যে, সরকারি কর্মকর্তা ও অন্যান্য পেশাজীবীরা ছয় মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করলেও শীর্ষ রপ্তানিখাতের শ্রমিকরা এখনো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্যের সভাপতি তসলিমা আখতার বলেন, "ডিইপিজেডের ভেতরে ও বাইরে ৩০০টিরও বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে বহু শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।" তিনি আশুলিয়া ডিইপিজেডের সাউথ চায়না, গোল্ড টেক্স, অ্যাক্টর স্পেসসহ বেশ কয়েকটি কারখানার বন্ধের উদাহরণ টানেন।
কারখানা পুনরায় চালু ও বেতন-বোনাস প্রদানের আহ্বান
তসলিমা আখতার সরকার ও কারখানা মালিকদের কাছে বন্ধ কারখানা দ্রুত পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তা কমানোর জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, সকল বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস সরকার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিশোধ করতে হবে—বেতনের জন্য সাত কার্যদিবসের মধ্যে এবং বোনাসের জন্য ১২ মার্চের মধ্যে।
সমাবেশে বক্তারা সরকার ও নিয়োগকর্তাদের সাথে একযোগে কাজ করে এই শ্রমিকদের জন্য ছয় মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি চালু করার পাশাপাশি কারখানাগুলোতে উপযুক্ত স্তন্যপান কর্নার ও মানসম্মত ডে-কেয়ার সুবিধা প্রদানেরও দাবি জানান।
সমাবেশের আয়োজন ও বক্তারা
সমাবেশটি সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির নারী বিষয়ক সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন। মূল বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সভাপতি তসলিমা আখতার। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং পিপলস সলিডারিটি মুভমেন্টের আশুলিয়া শাখার নির্বাহী সমন্বয়ক রোকনুজ্জামান মনি।
সমাবেশ শেষে একটি র্যালি বের হয় যা নবীনগর-মুখি লেন হয়ে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অতিক্রম করে আশুলিয়া বাইপাস কর্নারে গিয়ে শেষ হয়। এই র্যালিতে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবিসমূহ নিয়ে সোচ্চার হন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
