বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে আবেদন শুরু: নিয়ম ও বাছাইপ্রক্রিয়া বিস্তারিত
বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ সাল থেকে এই আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়েছে এবং দেশের ৬৪টি জেলা থেকে পুরুষ ও নারী প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। তবে, পদে কতজন নেওয়া হবে, তা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
আবেদনের সময়সীমা
আবেদন শুরু হয়েছে ৫ মার্চ ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে এবং শেষ হবে ৩১ মার্চ ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে। এই সময়ের মধ্যে আবেদনকারীদের অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদনের ধাপসমূহ
আবেদন প্রক্রিয়া বেশ কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে, প্রার্থীদের http://police.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে লগ-ইন করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণের পর একটি User ID পাওয়া যাবে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বর থেকে ৪৫ টাকা সার্ভিস চার্জ জমা দিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে, User ID ব্যবহার করে কমপক্ষে ৪৫ টাকা ব্যালেন্স রয়েছে এমন টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বর থেকে দুটি এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রথম এসএমএসে TRC User ID লিখে ১৬২২২ নম্বরে এবং দ্বিতীয় এসএমএসে SMS TRC Yes-PIN Number লিখে একই নম্বরে পাঠাতে হবে।
বাছাইপ্রক্রিয়ার ধাপসমূহ
বাছাইপ্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে, অনলাইনে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই এবং Physical Endurance Test (PET)-এর জন্য বাছাই করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপে, প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংয়ে বাছাইকৃত প্রার্থীদের শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই এবং Physical Endurance Test-এ অংশগ্রহণ করতে হবে, যার মধ্যে দৌড়, পুশ-আপ, লং জাম্প, হাই জাম্প, ড্র্যাগিং এবং রোপ ক্লাইমিং অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয় ধাপে, শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞানের ওপর ৪৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এই পরীক্ষার জন্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে এবং আবেদন ফি ৫৬ টাকা।
চতুর্থ ধাপে, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ১৫ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পঞ্চম ধাপে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে।
শেষ ধাপে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগদানের পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত চূড়ান্ত বাছাই কমিটি শারীরিক যোগ্যতা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করবে।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাংলাদেশ পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা বাহিনীতে নতুন রক্ত সঞ্চার করতে পারে।
