সোনারগাঁও টেক্সটাইলে শ্রমিক নেতা ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ
সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দুই শ্রমিক নেতাকে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। আজ রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরের রূপাতলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের পর সন্ধ্যা ৬টায় তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ ও দাবি
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, ট্রেড ইউনিয়ন করার কারণে শ্রমিকনেতা ও ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ও সহসাধারণ সম্পাদক খুকু মণিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছাঁটাই করেছে। তারা এটিকে অমানবিক ও অগণতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করেন। শ্রমিকরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের কাজে ফিরিয়ে না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ছাঁটাই হওয়া মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে আমরা মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়েছিলাম। আমাদের আসতে দেরি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ আমাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এর জের ধরে আমাদের অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের চাকরি ফেরত চাই। যদি না দেয়, তবে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সমর্থন
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়ন করা শ্রমিকদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার ক্ষুণ্ন করার জন্য সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ওপর অন্যায়ভাবে ছাঁটাই ও নিপীড়ন চালাচ্ছে। সর্বশেষ ট্রেড ইউনিয়ন করার কারণে দুজন শ্রমিকনেতাকে চাকরি থেকে অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে। এটা অন্যায় এবং অমানবিক। আমাদের দাবি, অবিলম্বে চাকরিচ্যুত দুই শ্রমিকনেতাকে কাজে ফিরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
অবরোধের প্রভাব ও পরিস্থিতি
মহাসড়ক অবরোধের ফলে দুই পাশে কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনা বরিশাল নগরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে শ্রমিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।
শ্রমিকদের এই আন্দোলনটি ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও ন্যায্য চাকরি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
