নবম পে স্কেল: বেতন ১৩০% পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা, জুলাইয়ে গেজেট
নবম পে স্কেল: বেতন ১৩০% পর্যন্ত বাড়তে পারে

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নবম পে স্কেলের নতুন মূল বেতন কার্যকর হতে পারে। প্রায় এক যুগ পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চালুর উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

সরকার নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপেই আগামী জুলাই থেকে সংশোধিত স্কেলের পূর্ণাঙ্গ মূল বেতন কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের রূপরেখা অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে।

বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত পৃথক তিনটি পে কমিশনের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাস্তবায়নের বিকল্প পরিকল্পনা

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকার প্রথমে তিন বছর ও দুই বছর মেয়াদি—এমন দুটি বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছিল। বর্তমানে কোন পদ্ধতিতে এটি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। তিন বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হতো এবং তৃতীয় বছরে ভাতাগুলো কার্যকর করা হতো।

তবে অর্থ বিভাগ জানায়, দুই ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে (আইবিএএস++) কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে তারা একবারেই মূল বেতন পুরোটা কার্যকর করার সুপারিশ করে। তবে সামগ্রিকভাবে দুই ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে কমিটি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার বক্তব্য

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। আমরা আশা করছি, জুলাইয়ের মাঝামাঝি বা তার পরের সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ করা হবে।”

বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ

বর্তমান ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডে ১০০ শতাংশ বা তার কিছুটা কম এবং ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে গড়ে ১৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করতে পারে কমিটি। এবার মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে নবম পে কমিশন।

বাজেট বরাদ্দ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তব্যে ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিচ্ছি। গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, অথচ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।”

বরাদ্দের ব্যবহার

পে-স্কেল সংশোধনের আগের উদাহরণগুলোর মতো এবার বাজেট নথিতে বেতন-ভাতা খাতে আলাদা করে কোনো বৃদ্ধি দেখানো হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বরাদ্দটি নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এ খাতে ব্যয় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।

কর্মকর্তাদের মতে, বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ৪৪ হাজার কোটি টাকার এই বরাদ্দ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে।

পূর্ববর্তী পে স্কেল

২০১৫ সালে দুই ধাপে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ওই বছর সংশোধিত মূল বেতন এবং পরের বছর সংশোধিত ভাতা কার্যকর করা হয়। বর্তমানে সরকার তার ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে।