জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন করদাতাদের বিশেষ ন্যূনতম কর সুবিধা বহাল রেখেছে। প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী করদাতাদের ন্যূনতম কর হবে ১,০০০ টাকা, যেখানে বিদ্যমান করদাতাদের জন্য ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা থাকবে।
টিআইএন ধারক ও করদাতার সংখ্যা
এনবিআর সূত্র মতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ধারক রয়েছেন। তবে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে মাত্র ৪০ থেকে ৪২ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। নতুন করদাতাদের কর ব্যবস্থায় আনার জন্য এই বিশেষ ন্যূনতম কর সুবিধা রাখা হয়েছে।
করমুক্ত সীমা ও করের হার
নতুন অর্থবছর থেকে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩,৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে। করমুক্ত সীমার অতিরিক্ত আয়ের ওপর প্রথম ৩,০০,০০০ টাকায় ১০%, পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকায় ১৫%, পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকায় ২০%, পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকায় ২৫% এবং অবশিষ্ট করযোগ্য আয়ের ওপর ৩০% হারে কর দিতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তির বার্ষিক করযোগ্য আয় ৪,২০,০০০ টাকা হয়, তাহলে অতিরিক্ত ২০,০০০ টাকার ওপর ১০% হারে কর হবে ২,০০০ টাকা। তবে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, তাকে ন্যূনতম কর হিসেবে ৫,০০০ টাকা দিতে হতো। প্রথমবার রিটার্ন দাখিল করলে ন্যূনতম কর হবে মাত্র ১,০০০ টাকা।
সারা বছর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ
এনবিআর চলতি অর্থবছরের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলে বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন অনলাইনে বছরের যেকোনো সময় রিটার্ন দাখিল করা যাবে। তবে যারা আগে রিটার্ন দাখিল করবেন, তারা কর ছাড় পাবেন।
নতুন বিধান অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিলকারীরা প্রদেয় করের ৫% বা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা (যা কম) ছাড় পাবেন। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিলকারীরা কোনো অতিরিক্ত ছাড় বা জরিমানা ছাড়াই কেবল প্রযোজ্য কর দেবেন।
জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে দাখিলকারীদের প্রদেয় করের অতিরিক্ত ২% বা ন্যূনতম ৩,০০০ টাকা (যা বেশি) দিতে হবে। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে দাখিলকারীদের অতিরিক্ত ৫% বা ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা (যা বেশি) দিতে হবে।
কর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, সারা বছর অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ এবং সময়ভিত্তিক কর ছাড় প্রবর্তন করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করবে। এনবিআর মনে করে, নতুন করদাতাদের জন্য কম ন্যূনতম কর বজায় রাখা দেশের কর জাল সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।



