এনবিআরকে দুই ভাগে ভাগ করে কর প্রশাসনে বড় সংস্কারের পরিকল্পনা সরকারের
এনবিআরকে দুই ভাগে ভাগ করে কর প্রশাসনে বড় সংস্কার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে কর প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোয় রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পৃথক দুটি বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা

রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণে দক্ষতা বাড়ানো এবং কর প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এনবিআরের বর্তমান কাঠামো নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় ভুগছে। প্রস্তাবিত পুনর্গঠনের মাধ্যমে সেই দুর্বলতাগুলো দূর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

নতুন কাঠামো: নীতি ও ব্যবস্থাপনা পৃথক

অর্থমন্ত্রী বলেন, “এনবিআর এমন একটি সমস্যা, যা আমাদের সমাধান করতে হবে। আমরা এটিকে দুই ভাগে ভাগ করতে যাচ্ছি। নীতি নির্ধারণের জন্য একটি আলাদা বডি এবং ব্যবস্থাপনার জন্য আরেকটি আলাদা বডি থাকবে।” সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজস্ব নীতি বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে করনীতি প্রণয়ন করবে। অপরদিকে, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ সেই নীতিগুলোর বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ফলে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন তৈরি হবে, যা আধুনিক কর প্রশাসনের আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নীতি প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “নীতি নির্ধারণী পর্যায় আমলাদের দ্বারা পরিচালিত হতে যাচ্ছে না। আমরা চাই কর বিশেষজ্ঞ এবং যারা বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষকে বোঝেন, তারা নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আসুক।” তিনি উল্লেখ করেন, করনীতি প্রণয়নের দায়িত্ব শুধু আমলাদের হাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং কর বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হবে।

কর ব্যবস্থার সমস্যা ও সমাধান

অর্থমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা হলো দুর্বল নীতি প্রণয়ন। সঠিক ও সময়োপযোগী নীতি গ্রহণ করা গেলে কর প্রশাসনের অনেক জটিলতা দূর করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “শুরুতেই যদি নীতি নির্ধারণের জায়গাটি ঠিক করা যায়, তাহলে সমস্যার অন্তত ৫০ শতাংশ সমাধান হয়ে যায়।”

প্রত্যাশিত প্রভাব

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কর প্রশাসনের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে করদাতাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

সংস্কারের মাইলফলক

এনবিআরের পুনর্গঠন নিয়ে সরকারের এই ঘোষণা রাজস্ব খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পৃথক করা গেলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলতে সহায়তা করবে।