চলতি অর্থবছরে প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দিলে ন্যূনতম কর এক হাজার টাকা অব্যাহত থাকবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন অর্থবছরে এই সুবিধা বহাল রেখেছে। প্রথমবার রিটার্ন দানকারীদের জন্য ন্যূনতম কর এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে অন্যান্য করদাতাদের জন্য এটি পাঁচ হাজার টাকা। ফলে নতুন করদাতারা আর্থিকভাবে কিছুটা ছাড় পাচ্ছেন।
বর্তমান টিআইএনধারী ও রিটার্ন দানের পরিসংখ্যান
বর্তমানে দেশে ১ কোটি ২৮ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। তবে তাদের মধ্যে বছরে মাত্র ৪০ থেকে ৪২ লাখ টিআইএনধারী রিটার্ন দাখিল করেন। এই সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এনবিআর বিভিন্ন প্রণোদনা ও সুবিধা প্রদান করছে।
বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ও করহার
এ বছর থেকে বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা হয়েছে। এরপর প্রথম তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর বসবে। পরের ৪ লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ, পরের ৫ লাখ টাকায় ২০ শতাংশ, পরের ২০ লাখ টাকায় ২৫ শতাংশ এবং পরবর্তী টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর বসবে।
নতুন করদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা
যদি কারও বার্ষিক আয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা হয়, তাহলে ২০ হাজার টাকার ওপর কর বসবে। ২০ হাজার টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর বসলে ২ হাজার টাকা হওয়ার কথা; কিন্তু ওই করদাতাকে ন্যূনতম কর হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। তবে একই পরিমাণ আয় হলে নতুন করদাতা বা প্রথমবার রিটার্ন দিলে তাঁদের এক হাজার টাকা দিলেই হবে। নতুন করদাতাদের এই সুবিধা অব্যাহত রাখল এনবিআর।
সারা বছর আয়কর রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ
এ বছর থেকে সারা বছর ধরে রিটার্ন দেওয়া যাবে। তবে সবাইকে অনলাইনে রিটার্ন দিতে হবে। আগে দিলে বেশি করছাড় পাবেন করদাতারা। বাজেট প্রস্তাব অনুসারে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা, যা কম তা–ই ছাড় পাবেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন যা কর, তা–ই দিলেই হবে। কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।
আর জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি, সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। এপ্রিল-জুন মাসে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি, সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।



