এনবিআর চেয়ারম্যানের ঘোষণা: ৬ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যে কোনো বাধা দূর করতে কর কর্তৃপক্ষ এখন কঠোর হবে। এই কঠোর অবস্থানের পেছনে মূল কারণ হলো, আগামী অর্থবছরের জন্য এনবিআরকে ৬ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামে প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভার মূল বক্তব্য
গত বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ওয়ার্লড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম চেম্বারের উদ্যোগে এক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন চেম্বারের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের চেম্বার ও ট্রেডবডিগুলোর নেতারা অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রশাসক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মোতাহার হোসেন। এনবিআর চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, "রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআরের পুরো প্রক্রিয়াকে অটোমেটেড ট্যাক্স পে সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।"
অটোমেটেড সিস্টেম ও ভ্যাট ফেরতের নতুন ব্যবস্থা
মো. আবদুর রহমান খান জানান, যারা নানাভাবে ভ্যাট বেশি দিয়েছেন, তাদের টাকা যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে অনিয়ম রয়েছে, সেগুলো দূর করতে অবশ্যই কঠোর হতে হবে।"
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও ব্যাখ্যা করেন যে, কাস্টমসের বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে ধীরে ধীরে পেপারলেস করার কাজ এগিয়ে চলছে। বর্তমানে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করা হবে।
- সব ট্যাক্স পেয়ারের ডাটা এনবিআরের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
- কোনো ট্যাক্স পেয়ার যদি ভুয়া কাগজ তৈরি করে, তবে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
- বন্ড সিস্টেমকেও সহজ পদ্ধতির মধ্যে আনা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
রাজস্ব আদায়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ ও সতর্কবার্তা
এনবিআর চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, সামনে রাজস্ব আদায়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, কারণ এবারের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নতুন রাজস্ব আদায়ে কোনো অনিয়ম না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, "যাদের আয় বেশি আছে, তারা ট্যাক্স দেওয়ার বিষটি হাসিমুখে মেনে নেবেন।" বিগত সরকারের আমলে ব্যাংকিং সেক্টরের নৈরাজ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, "গ্রাহকরা বলছে, 'আমরা ট্যাক্স দেই কষ্টের টাকা, আর সেই টাকা লুটেরারা লুটেপুটে নিচ্ছে'— কথাটি সত্য।"
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা
এই মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আমিরুল হক, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমি হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ তানভির, বিজিএমইএ নেতা নাছিরউদ্দিন চৌধুরী, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ গুডস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জিপিএইচ কর্মকর্তা আলমাস শিমুল এবং বিএসএম গ্রুপের আবুল বাসার চৌধুরী প্রমুখ।
এই সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও নেতৃবৃন্দ আগামী বাজেটে কর নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। এনবিআর চেয়ারম্যানের এই ঘোষণা আগামী অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



