নিয়মিত কর দিয়ে বিদেশ থেকে টাকা আনার সুযোগ, কালোটাকা সাদা করার পথ বন্ধ: এনবিআর চেয়ারম্যান
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিদেশ থেকে টাকা আনতে চাইলে অবশ্যই নিয়মিত কর দিতে হবে। তিনি বলেন, 'অনেকেই দেশে টাকা আনতে চান। আমরা বলেছি, পথ খোলা। নিয়মিত কর দিয়ে টাকা নিয়ে আসেন। আমরা কোনো শাস্তি দেব না। তবে কালোটাকা সাদা করার রাস্তা বন্ধ।' এই ঘোষণা তিনি বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক্-বাজেট আলোচনায় দেন।
প্রাক্-বাজেট আলোচনায় আবাসন খাতের দাবি
এই সভায় আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) সহ মোট ১৩টি সংগঠন তাদের বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে। রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, 'প্রবাসীরা অনেক সময় ঘোষণা ছাড়া টাকা পাঠান, তখন সেই অর্থ অপ্রদর্শিত আয় হিসেবে গণ্য হয়। এ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনতে না দিলে তা বিদেশে চলে যায়।' জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, প্রবাসীরা এখন বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠালে সরকার ভর্তুকি দেয় এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজে টাকা পাঠানো যায়।
কালোটাকার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান
মো. আবদুর রহমান খান আরও বলেন, '৫৫ বছর ধরে আমরা কালোটাকার সংস্কৃতির মধ্যে ছিলাম। তাই আর সেখানে ফিরে যেতে চাই না। কর ফাঁকির সংস্কৃতিকে আর উৎসাহিত করতে চাই না।' তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, কালোটাকা সাদা করার জন্য আগের বিধান পুনর্বহালের দাবি মানা হবে না, বরং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।
আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ
বৈঠকে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে আবাসন খাতে ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে কালোটাকা বিনিয়োগ করলে কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন করবে না, এমন সুযোগ চাওয়া হয়েছিল। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান এ ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, শুধুমাত্র বৈধ পথে টাকা আনলেই বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে। তিনি আশ্বাস দেন যে, আবাসন খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে, কিন্তু তা অবশ্যই করের আওতায় হতে হবে।
এই আলোচনা দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও কর আদায়ের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে বাজেট নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



