ট্যাক্স কমানোর দাবি নয়, সমস্যার সমাধানে মনোযোগ: এনবিআর চেয়ারম্যান
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন যে, ট্যাক্স কমানোর পরিবর্তে বর্তমান সমস্যার সমাধানেই মনোযোগ দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে কৃষিখাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
ট্যাক্স কমানোর চক্রের সমালোচনা
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “ট্যাক্স কমানোর কথা না বলে সমস্যার কথা বলুন, আমরা সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, ট্যাক্স কমালে ব্যবসায়ীরা আরও কমানোর দাবি জানায়। এরপর তা শূন্যে নামানোর চাপ তৈরি হয়। শূন্য করলে ভর্তুকি চাওয়া হয়, আর ভর্তুকি দিলে তা বাড়ানোর দাবি ওঠে। এই চক্রের কোনও শেষ নেই। জিরো করেও কেউ সন্তুষ্ট থাকে না।”
রাজস্ব আহরণের গুরুত্ব
মো. আবদুর রহমান খান জোর দিয়ে বলেন, “ট্যাক্স কমিয়ে দিলে ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স বাড়বে—এমন ধারণা সঠিক নয়। আমাদের দায়িত্ব রাজস্ব বাড়ানো। যেখানে যৌক্তিক সমন্বয় প্রয়োজন, আমরা সেখানে রেশনালাইজেশন করব। তবে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণও বিবেচনায় রাখতে হবে।”
কৃষিখাত সংশ্লিষ্ট সংস্থার অংশগ্রহণ
এই প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করে কৃষিখাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো। অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)
- ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এফআইএবি)
- বাংলাদেশ অ্যাগ্রো ফিড ইনগ্রেডিয়েন্টস ইমপোটার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফিটা)
- বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)
- বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন (বিসিপিএ)
- বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)
- শ্রিম্প অ্যান্ড হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব)
- অ্যানিমাল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এএইচসিএবি)
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও আলোচনা
সভায় ব্যবসায়ীরা করের চাপ, বাজারের চাহিদা ও সাপ্লাই চেইনের জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা এনবিআরের সঙ্গে যৌক্তিক সমাধানের জন্য পরামর্শ বিনিময় করেন। এই আলোচনায় কৃষিখাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয় এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করা হয়।
এনবিআর চেয়ারম্যানের এই ঘোষণা কৃষিখাতের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি নির্দেশ করে যে, সরকার ট্যাক্স কমানোর দাবির চেয়ে প্রকৃত সমস্যা সমাধানে অধিক আগ্রহী। প্রাক-বাজেট আলোচনা সভাটি আগামী বাজেট প্রণয়নে কৃষিখাতের প্রয়োজনীয়তাগুলো বিবেচনায় নেওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



