ধনী ব্যক্তিদের উপর কর বৃদ্ধির সরকারি প্রস্তাব: ন্যায্য কর ব্যবস্থার দিকে পদক্ষেপ
সরকারের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে দেশের ধনী ব্যক্তিদের উপর কর বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ যখন সীমিত রাজস্ব ক্ষমতা ও ক্রমবর্ধমান সরকারি ব্যয়ের চাহিদা নিয়ে সংগ্রাম করছে, তখন একটি প্রগতিশীল কর কাঠামো কেবল কাম্য নয়—এটি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধির বিবরণ
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সরকার অতিধনী ব্যক্তিদের জন্য শীর্ষ আয়কর হার ৩০% থেকে বাড়িয়ে ৩৫% করার পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপটি লক্ষ্য করবে বছরে ১ কোটি টাকার বেশি আয় করা ব্যক্তিদের। এটি একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বীকৃতি যে, যাদের আর্থিক সামর্থ্য বেশি, তাদেরই আনুপাতিকভাবে বেশি দায়িত্ব বহন করা উচিত।
বর্তমান কর ব্যবস্থার অসামঞ্জস্যতা
দীর্ঘদিন ধরে দেশের কর ব্যবস্থা মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদের উপর অসমভাবে নির্ভরশীল। এই ব্যক্তিরা প্রায়শই উৎসে কর কর্তনের শিকার হন, যেখানে ফাঁকি দেওয়ার খুব কম সুযোগ থাকে। অন্যদিকে, অনেক সম্পদশালী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি লুফে নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগায় বা সঠিক ঘোষণা দেওয়া এড়িয়ে যায়।
দুর্ভাগ্যবশত, এর ফলে একটি কাঠামোগতভাবে অসম ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে—যেখানে সাধারণ নাগরিকদের জন্য করের বোঝা দৃশ্যমান ও তাৎক্ষণিক, কিন্তু ক্ষমতাশালীদের জন্য এটি ঐচ্ছিক হয়ে উঠেছে।
কর বৃদ্ধি ও প্রয়োগের সমন্বয়
ধনীদের উপর কর বৃদ্ধি অবশ্যই প্রয়োগের সাথে হাত মিলিয়ে চলতে হবে। আয় ট্র্যাক করা, ফাঁকি রোধ করা এবং সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী প্রক্রিয়া ছাড়া, উচ্চ কর হার প্রতীকী হয়ে উঠতে পারে, বাস্তবিক নয়। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও পিছিয়ে আছে, এবং হার সমন্বয়ের পাশাপাশি সংগ্রহ দক্ষতা উন্নয়ন সমান গুরুত্বপূর্ণ।
জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা
জবাবদিহিতার প্রশ্নটি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ: নাগরিকরা কর প্রদানে বেশি সক্ষম হবেন যখন রাজস্ব সংগ্রহ ও ব্যয়ে স্বচ্ছতা থাকবে। কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, সংগ্রহস্থলে স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা হ্রাস এবং স্পষ্ট জনগণনা প্রতিবেদন বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ পথ যেতে পারে।
কর সংস্কারের চূড়ান্ত লক্ষ্য
চূড়ান্তভাবে, কর সংস্কারকে ব্যবস্থার মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের উপর চাপ সৃষ্টির আরেকটি পথে পরিণত করা উচিত নয়। বরং এটি জালকে উপরের দিকে প্রসারিত করা উচিত—যারা দীর্ঘদিন অর্থপূর্ণ তদারকির বাইরে রয়েছেন তাদের দিকে। একটি ন্যায্য ব্যবস্থা এমন নয় যেখানে সবাই বেশি করে, বরং যেখানে প্রত্যেকে তার প্রকৃত পাওনা পরিশোধ করে।
এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের রাজস্ব কাঠামোকে আরও ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর করার দিকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।



