বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে, ৯ মাসে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ
বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে, ৯ মাসে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার

দেশের ওপর বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশকে ঋণের সুদ ও আসল বাবদ সাড়ে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। একই সময়ে ঋণ ছাড় ও অনুদান প্রবাহ থাকলেও পরিশোধের গতি বাড়ায় অর্থনীতিতে চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইআরডির প্রতিবেদন

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আলোচ্য সময়ে মোট ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এর বিপরীতে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে দেশে এসেছে ৩৮৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ নতুন অর্থপ্রবাহ থাকলেও ঋণ পরিশোধের চাপ সমান্তরালভাবে বাড়ছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, এই ৯ মাসে পরিশোধিত অর্থের মধ্যে আসল ঋণের পরিমাণ প্রায় ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এবং সুদ পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ১২৫ কোটি ডলার। একই সময়ে ঋণ হিসেবে এসেছে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার এবং অনুদান হিসেবে ৩৮ কোটি ডলার।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঋণ পরিশোধের ধারা

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েক বছর ধরেই বিদেশি ঋণ পরিশোধের প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো মোট ঋণ পরিশোধ ৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে, যা ছিল প্রায় ৪০৯ কোটি ডলার। তার আগের বছর এ পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঋণ ছাড়ে এগিয়ে রাশিয়া

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে রাশিয়া— প্রায় ৮৩ কোটি ডলার। এর পরেই রয়েছে বিশ্বব্যাংক, যারা দিয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি ডলার। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে প্রায় ৬১ কোটি ডলার। এছাড়া চীন দিয়েছে ৫২ কোটি ডলার, জাপান ৩১ কোটি ডলার এবং ভারত দিয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ডলার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেশীয় ঋণেও চাপ বাড়ছে

বিদেশি ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও ঋণ গ্রহণ বেড়েছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। যদিও আংশিক পরিশোধের পর বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকায়। ফলে বৈদেশিক ও দেশীয়— দুই উৎস থেকেই ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে।

প্রতিশ্রুত ঋণ কমেছে

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, নতুন প্রতিশ্রুতি কিছুটা কমলেও পরিশোধের চাপ বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতামত

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বড় আকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গত এক দশকে নেওয়া ঋণের কিস্তি এখন পরিশোধ পর্যায়ে প্রবেশ করায় এই চাপ তৈরি হয়েছে। সামনে এই প্রবণতা আরও জোরালো হতে পারে। তাই ঋণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সব মিলিয়ে, উন্নয়ন অর্থায়নে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বজায় থাকলেও এর বিপরীতে ক্রমবর্ধমান পরিশোধের চাপ অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।