বাজেটে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য উদ্যোগ কার্যকর করতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
বাজেটে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য উদ্যোগে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি

আজ রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত বাজেট নিয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন সংস্থার আহবায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘আগামী বাজেটে নিঃসন্দেহে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিশেষ উদ্যোগ থাকবে; কিন্তু এই উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে অবশ্যই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা লাগবে। না হলে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যে দুই–আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে, তা মূল্যস্ফীতি সামলাতে চলে যাবে।’

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, এতে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলবে; আর অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে দক্ষতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি দমন করতে হবে। এ জন্য লাগবে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতি সংস্কার। আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট সংলাপে এ কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

রাজনৈতিক অঙ্গীকার বনাম অর্থনীতির মূল বিষয়

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বাহ্যিক কিছু জিনিসের কথা বলছে। খাল খনন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং মানুষের রুটি-রুজি বাড়ানোর মতো অর্থনীতির যে মূল বিষয়গুলো রয়েছে, তা বৃহৎভাবে মনোযোগের ভেতরে আসছে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থনীতির বাস্তবতা ও বাজেট প্রণয়ন

নতুন সরকার কী অবস্থায় অর্থনীতিকে পেয়েছে, তার কোনো প্রামাণ্য দলিল সরকার তৈরি করেননি বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বাজেট তৈরি হচ্ছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আমরা বলেছিলাম যে গতানুগতিক বাজেট হচ্ছে। সেই কথাই আবার পুনরাবৃত্তির দিকে যেতে পারে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটের প্রাণ হলো সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা। এটি সরকার কীভাবে করতে যাচ্ছে সেটি বুঝতে হবে। এবার একটি কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলার বাজেট তৈরি করা উচিত ছিল; কিন্তু যে আলোচনা শোনা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, সেই কঠোরতার দিকে সরকার খুব এগোয়নি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান, বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ।

পরিবার কার্ডের আওতা ও বাস্তবায়ন

চার বছরে ১০ কোটি মানুষ ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে। চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া সরকার আগামী অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে ৪০ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানান তিনি। আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও পরিবার কার্ড পাবেন জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, তবে তাঁদের ভাতার টাকা দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় হবে।

সিপিডি ফেলোর বক্তব্য

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আগামী বাজেটে সরকারের আয়, ব্যয় এবং কীভাবে অর্থায়ন ও ঋণ ব্যবস্থাপনা করছে, সেটি আমরা দেখতে পারি। বাজেটে সরকার সম্পদের পুনর্বণ্টন করতে পারছে কি না, সেটির একটি লিটমাস টেস্ট হয়ে যাবে। এ ছাড়া রাজস্ব ব্যয়ে এবার ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো রাখতে হবে কেবলমাত্র ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য, যা বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।’ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ বকেয়া আছে জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, এই টাকা তাদের কাছে সুদাসলে সরকারের পাওনা রয়েছে। এসব জায়গায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে হবে। তাদের হয় শেয়ারবাজারে নিয়ে আসেন; অথবা ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে দিয়ে দেন।

বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের তিন মাসের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হককে। জবাবে তিনি বলেন, আস্থার জায়গা হয়তো কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে; কিন্তু বিনিয়োগের পরিবেশ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ব্যাংকিং খাতে তারল্যসংকট রয়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এখনো কাটেনি। এগুলোর সমাধান না হলে বিনিয়োগ আসবে না।