সরকার মুঠোফোন সেবায় ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকা নেয়, যা গ্রাহকদের জন্য ব্যয়বহুল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সরকারের আয় ও গ্রাহকের ব্যয়
মুঠোফোন সেবায় গ্রাহকরা প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকা সরকারকে বিভিন্ন কর ও ফি বাবদ দেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৫% ভ্যাট, ৫% সারচার্জ, এবং অন্যান্য ফি। এছাড়া অপারেটরদের কাছ থেকে সরকার নেয় স্পেকট্রাম ফি ও লাইসেন্স ফি। ফলে গ্রাহকদের সেবার খরচ বেড়ে যায়।
ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য
সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, কিন্তু মুঠোফোন সেবার উচ্চ কর এর পথে বাধা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেবার ব্যয় কমানো না গেলে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়।
তারা আরও জানান, প্রতিবেশী দেশ ভারতে মুঠোফোন সেবায় করের হার অনেক কম। সেখানে সরকার প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে মাত্র ১৮ টাকা নেয়। ফলে সেবার খরচ কম এবং ব্যবহার বাড়ছে।
- বাংলাদেশে মুঠোফোন সেবায় করের হার ৫৬%
- ভারতে করের হার ১৮%
- পাকিস্তানে করের হার ১৯%
- শ্রীলঙ্কায় করের হার ২৫%
সংশোধনের দাবি
মুঠোফোন অপারেটররা সরকারের কাছে কর কমানোর দাবি জানিয়েছে। তারা বলছে, উচ্চ করের কারণে গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে না। বরং অনেকেই সেবা ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বলছে, তারা বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কর কমানো সম্ভব নয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মুঠোফোন সেবা থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হয়। তাই কর কমানো হলে এসব খাতে বাজেট কমে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে মুঠোফোন সেবার কর কমানো জরুরি। অন্যথায় দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব হবে না।



