জ্বালানি সিন্ডিকেটের কাছে নতি স্বীকার করেছে সরকার: সারজিস আলমের তীব্র সমালোচনা
জ্বালানি সিন্ডিকেটের কাছে সরকারের নতি: সারজিস আলমের সমালোচনা

জ্বালানি সিন্ডিকেটের কাছে সরকারের নতি স্বীকার: সারজিস আলমের তীব্র সমালোচনা

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেকটা বাড়িয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) থেকে এই নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে 'জ্বালানি সিন্ডিকেটের কাছে নতি স্বীকার' হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টে কঠোর সমালোচনা

শনিবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম সরকারের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি সিন্ডিকেটের কাছে সরকার নতি স্বীকার করেছে। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে এবং সরকারের দায়িত্বহীনতা প্রকাশ করছে।

জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা

মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, অকটেনের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১২০ টাকা। একইভাবে পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১১৬ টাকা। এছাড়া ডিজেল ও কেরোসিনের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এখন থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকায় এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় কিনতে হবে গ্রাহকদের। এর আগে ডিজেলে ১০০ টাকা এবং কেরোসিনে ১১২ টাকা দাম কার্যকর ছিল। অর্থাৎ, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ১৫ ও ১৮ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের যুক্তি ও বিরোধী প্রতিক্রিয়া

মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে সারজিস আলম এই যুক্তিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। তিনি বলেন, সরকারের উচিত ছিল জ্বালানি সিন্ডিকেটের চাপে না গিয়ে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকেও সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এই দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন ব্যয় এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন খাতে প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সারজিস আলমের সমালোচনা সরকারের নীতির উপর প্রশ্ন তুলছে এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি নীতি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।