বিদ্যুৎ খাতে ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বকেয়া, ব্যাংক ঋণ ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা
বিদ্যুৎ খাতে ৫২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, ব্যাংক ঋণ ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি

বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া বিল ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, ব্যাংক ঋণ ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ রবিবার জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট বকেয়া বিল প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তিনি সংসদে বিএনপি সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন (ঢাকা-১৮) এর একটি উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য দেন।

বকেয়া বিলের বিস্তারিত হিসাব

মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বিদ্যুৎ আমদানির বকেয়া বিল ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। জাহাঙ্গীর হোসেন প্রশ্ন করেছিলেন, দেশে সরকারি বা বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোনো বকেয়া বিল আছে কিনা।

মোট বকেয়া বিলের মধ্যে, সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির গ্যাস বিলের বকেয়া হিসেবে পেট্রোবাংলার কাছে ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এছাড়া ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বকেয়া আছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ও জ্বালানি বকেয়া

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও জানান, গ্যাস ও ফুয়েল অয়েল ভিত্তিক স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদক (আইপিপি) কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ও জ্বালানি বকেয়া ১৭ হাজার ৩৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগ ও আইপিপি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কয়লা মূল্য ও ক্যাপাসিটি পেমেন্টের বকেয়া ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

এছাড়া সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ও জ্বালানি বকেয়া ৫ হাজার ৬২৩ কোটি ৩ লাখ টাকা। হোলিং চার্জ হিসেবে ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী সংসদে আরও অবহিত করেন যে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ব্যাংক ঋণের মোট পরিমাণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এই বিশাল ঋণের পরিমাণ বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ ও ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই বকেয়া বিল ও ঋণের তথ্য বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক স্বাস্থ্য ও স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই বকেয়া বিল জমে থাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।