জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য 'মরার ওপর খাঁড়ার ঘা': গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এক বিবৃতিতে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন, যা দেশের সাধারণ মানুষের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
মূল্যবৃদ্ধির বিস্তারিত ও অর্থনৈতিক প্রভাব
গোলাম পরওয়ার তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, নতুন ঘোষিত দরে ডিজেল লিটারে ১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা, অকটেন ২০ টাকা এবং পেট্রোল ১৯ টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা সরাসরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে প্রতিফলিত হবে।
ফলে খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি আরও যোগ করেন, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রতিফলিত হয়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে।
কৃষি খাত ও খাদ্য নিরাপত্তার হুমকি
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কৃষি খাতেও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব পড়বে। সেচ, পরিবহণ ও কৃষি উপকরণের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে ইতিমধ্যেই হিমশিম খাচ্ছে, এবং এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি 'মরার ওপর খাঁড়ার ঘা' হয়ে দাঁড়াবে।
সরকারের প্রতি দাবি
তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। গোলাম পরওয়ারের মতে, এই সিদ্ধান্তটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে পারে। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই ইস্যুতে সোচ্চার থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।



