জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও রাজধানীর পেট্রোল পাম্পে ভিড় অব্যাহত
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকার ভোক্তা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শনিবার (১৮ এপ্রিল) থেকে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তে অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভিড়
দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও রবিবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার জন্য আগের মতোই লম্বা লাইন দেখা গেছে। মিরপুর-১৪, মহাখালী, রমনা ও মতিঝিলের পেট্রোল পাম্পগুলোতে সরেজমিন পরিদর্শনে এই দৃশ্য চোখে পড়ে। মিরপুর-১৪ নম্বর তেলের পাম্পে প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা লাইন ছিল, যেখানে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন অপেক্ষা করছিল।
রমনা পেট্রোল পাম্পে গাড়ির লাইন বেশি দেখা গেলেও, বাইকের লাইন অন্যান্য দিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক কম ছিল। মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল পাস ছাড়া কোনো বাইকে তেল দেওয়া হচ্ছিল না, যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করেছে।
চালকদের প্রতিক্রিয়া ও দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ
পাম্পে অপেক্ষমান চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দাম বৃদ্ধির পরেও তারা তেল নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সেলিম নামে এক বাসচালক বলেন, "আমি একদিন তেল নেই, একদিন গাড়ি চালাই। দাম বেশি নিলে নিক, লাইনে আর থাকতে চাই না।" তিনি আশা করেন, দাম বাড়ার ফলে হয়তো প্রতিদিন সাত-আট ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না, যা কিছুটা স্বস্তির বিষয় হতে পারে।
অন্যদিকে, মনির নামে এক বাইকচালক, যিনি ফুড পান্ডায় কাজ করেন, বলেন, "আমি বাইক চালিয়ে সংসার চালাই। সরকারের কাজে আমার কোনো প্রতিবাদ নাই। আমি শুধু বাইকের অকটেন চাই, দাম যাই হোক। বাইক বন্ধ হয়ে গেলে আমার সংসারের খাবারও বন্ধ হয়ে যাবে।" তার কথায় উঠে এসেছে দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও জীবিকা নির্বাহের জন্য তেলের অপরিহার্যতা।
পূর্ববর্তী দাম বৃদ্ধি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
এটি চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে, ১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছিল। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ওঠানামার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে, বিশেষ করে যারা দৈনন্দিন যাতায়াত ও ব্যবসার জন্য তেলের উপর নির্ভরশীল।
দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও পাম্পে ভিড় অব্যাহত থাকার ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চাহিদা এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং অনেক চালকদের জন্য তেল সংগ্রহ করা একটি জরুরি কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চালকরা তাদের অভিযোগ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন, যেখানে দাম বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবেলা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।



