বৈশ্বিক সংকটে দেশে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ রেকর্ড, ডিজেল ১১৫ টাকা
জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ, ডিজেল ১১৫ টাকা

বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ রেকর্ড

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের নতুন দাম ঘোষণা দিয়েছে, যা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্য সমন্বয়ের কথা জানানো হয়েছে।

নতুন দামের বিস্তারিত তথ্য

একনজরে প্রতি লিটারে নতুন দামের তালিকা নিম্নরূপ:

  • ডিজেল: ১১৫ টাকা (পূর্বে ৯৯ টাকা, বৃদ্ধি প্রায় ১৫%)
  • কেরোসিন: ১৩০ টাকা (পূর্বে ১১২ টাকা)
  • অকটেন: ১৪০ টাকা (পূর্বে ১২০ টাকা)
  • পেট্রল: ১৩৫ টাকা (পূর্বে ১১৬ টাকা)

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা সেই সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল। তবে এবার ১১৫ টাকা নির্ধারণের মাধ্যমে সেই রেকর্ড ভেঙে গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি ও সরকারের পদক্ষেপ

দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনে ভিড় বেড়ে গেছে। মানুষের ভোগান্তি কমানোর জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সংস্থাটির তিনজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাড়তি তেল সরবরাহ করতে গতকাল রাতেই তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিপিসি কর্মকর্তারা আরও উল্লেখ করেছেন, গত বছরের তুলনায় তেলের চাহিদা হঠাৎ ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাজারে যে অস্বাভাবিক চাহিদা দেখা যাচ্ছে তা আসলে যৌক্তিক নয়। মানুষের ভোগান্তি কমাতে আমরা সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছি।’

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও দেশীয় প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও মাঝে হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় দাম কিছুটা কমে ৯০ ডলারে এসেছিল, কিন্তু ইরান আবারও প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিপিসির তথ্যানুসারে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন ডিজেল মজুত আছে এবং পথে থাকা আরও জাহাজে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল যুক্ত হবে। এছাড়া পেট্রল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আজ থেকে ডিজেলের দৈনিক সরবরাহ ১১ হাজার ১০৭ টন থেকে বাড়িয়ে ১৩ হাজার ৪৮ টন এবং অকটেনের সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন থেকে বাড়িয়ে আরও ২৩৭ টন করার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৩ শতাংশই হলো ডিজেল। তাই এর দাম বাড়ার প্রভাব গণপরিবহন এবং কৃষি খাতে পড়ার আশঙ্কা করছে সাধারণ মানুষ। এই মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।