নীলফামারীর সৈয়দপুরে এলপিজি স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: জ্বালানি তেল জব্দ ও সাত জনের শাস্তি
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংরক্ষণ ও সরবরাহের অভিযোগে সাত জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা প্রদান করা হয়েছে।
অভিযানের সময় ও স্থান
উপজেলার মতির মোড় বাইপাস সড়কে অবস্থিত ওই পাম্পে ঘটনাটি ঘটে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন। অভিযানে সৈয়দপুর থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকা
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন জানায়, পুরাতন বাবুপাড়া এলাকার আব্দুল রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলামকে (২৬) দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়াও একই এলাকার সেরাজ (২৫), হাতিখানা এলাকার মঈনুদ্দীন (৪৮), সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকার জাহাঙ্গীর (৩৫), সাগর (৩৫), মিস শেখ (২৪) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সিরাজকে (২৮) এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় আটকদের মধ্যে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী থাকায় তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেয়।
অভিযানের বিস্তারিত
সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফিলিং স্টেশনটি তল্লাশি করে একটি নোয়াহ গাড়ি ও একটি কাভার্ডভ্যান পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে বাইরে থেকে সাধারণ মনে হলেও যানবাহন দুটির ভেতরে জ্বালানি পরিবহনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা ছিল। কাভার্ডভ্যানের ভেতরে অবৈধভাবে স্থাপিত মিনি পাম্পের মাধ্যমে অকটেন ও পেট্রোল স্থানান্তরের প্রমাণ মেলে। একই সঙ্গে নোয়াহ গাড়ি থেকে বিপুল সংখ্যক প্লাস্টিকের জার উদ্ধার করা হয়, যা জ্বালানি সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতো।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন জানান, জব্দ করা জ্বালানি তেলের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য তা নিকটস্থ পেট্রোল পাম্পে নেওয়া হয়। পরে যাচাই শেষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সবকিছু জব্দ তালিকাভুক্ত করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত, পরিবহন ও বাজারজাতের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
এই অভিযানটি জ্বালানি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের দৃঢ় প্রত্যয়কে তুলে ধরে, যা সাধারণ জনগণের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।



