চুয়াডাঙ্গায় রান্নাঘরে বিপুল ডিজেল জব্দ, ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক ব্যক্তির রান্নাঘরে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল তেল মজুত রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর উপজেলার আসাননগর গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়, যেখানে শরিফুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে ৬৪৫ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর কারিগরপাড়ার বাসিন্দা এবং তিনি আবদুল জলিলের ছেলে। শরিফুল ইসলাম পূর্বে মুদি ও জ্বালানি তেলের ব্যবসা করলেও বর্তমানে সিট-কাপড়ের ব্যবসায় জড়িত। তবে, ব্যবসা পরিবর্তন করলেও তিনি লাইসেন্স ছাড়াই নিজ বাড়িতে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুত করছিলেন।
বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট চলাকালীন সময়েও তিনি মুনাফার আশায় এই তেল বাজারে ছাড়েননি, বরং গোপনে জমিয়ে রেখেছিলেন। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হক শাহীন। তিনি সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারকে অবহিত করেন।
প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও শাস্তি
ইউএনওর নির্দেশে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল শামীম ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন। অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংরক্ষণের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শরিফুল ইসলামকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ৬৪৫ লিটার ডিজেল বর্তমানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হক শাহীনের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দকৃত এই তেল ১৮ এপ্রিল স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কৃষকরা সহজলভ্য মূল্যে জ্বালানি তেল পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের সতর্কবার্তা
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল শামীম বলেন, "বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যারা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।" তার এই বক্তব্যে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এই ঘটনাটি চুয়াডাঙ্গা জেলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এটি অন্যান্য সম্ভাব্য অপরাধীদের জন্য একটি সতর্কসংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে।



