কাপ্তাই হ্রদের পানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদে চলমান অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহের প্রভাবে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে হ্রদের পানির ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে নিশ্চিত করেছেন যে, পানির অভাবে ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৩টি ইউনিটে উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট ৫টি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির ক্ষমতা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট। বর্তমানে, পানি স্বল্পতার কারণে শুধুমাত্র ২টি ইউনিট চালু রয়েছে, যেগুলো থেকে মোট ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট, এবং সবকটি ইউনিট সচল অবস্থায় এটি ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। তবে, বর্তমান সংকটে উৎপাদন প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।
হ্রদের পানির স্তর ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
কাপ্তাই হ্রদে বর্তমানে পানির স্তর ৮১ মিন সি লেভেল (এমএসএল) এ দাঁড়িয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ে থাকার কথা ৮৫ দশমিক ৮০ এমএসএল। এই পানি স্বল্পতা সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে। মাহমুদ হাসান উল্লেখ করেছেন যে, যদি পানির স্তর ৭০ এমএসএলের নিচে নেমে যায়, তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, হ্রদের পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল, এবং ৬৮ থেকে ৬৯ এমএসএলকে বিপজ্জনক স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভারী বৃষ্টিপাত হলে হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি পাবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনও পুনরায় স্বাভাবিক হবে। তবে, বর্তমানে অনাবৃষ্টি ও তাপদাহের কারণে এই সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় জনগণের উপর প্রভাব
কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে যাওয়ায় শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, হ্রদের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জলাধারের পানি সংকটের ফলে কৃষি, মৎস্য চাষ ও দৈনন্দিন ব্যবহারে ভোগান্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সামগ্রিকভাবে, কাপ্তাই হ্রদের পানি সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে, যা দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।



