বিইআরসির সিদ্ধান্তে ফার্নেস অয়েলের দাম বেড়েছে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা প্রতি লিটারে
ফার্নেস অয়েলের দাম বেড়েছে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা প্রতি লিটারে

ফার্নেস অয়েলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, প্রতি লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বেড়েছে

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা। রবিবার (১২ এপ্রিল) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আজ মধ্যরাত থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।

দাম বৃদ্ধির পূর্ববর্তী ও বর্তমান অবস্থা

দাম বাড়ানোর আগে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের বিক্রয়মূল্য ছিল ৭০ টাকা ১০ পয়সা। তবে, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আজ রাত থেকে এই জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা প্রতি লিটারে। অর্থাৎ, লিটারে দাম বেড়েছে ঠিক ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা। এই দাম সমন্বয় বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দাম সমন্বয়ের প্রক্রিয়া ও পটভূমি

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গণশুনানি, পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ সম্পন্ন করার পর ফার্নেস অয়েলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ফার্নেস অয়েলের ভোক্তাপর্যায়ের মূল্যহার, বিপিসির মজুতকরণ ও সরবরাহ চার্জ, তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর চার্জ এবং সমন্বিত পরিবহন ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই আদেশে ফার্নেস অয়েলের ভোক্তাপর্যায়ের মূল্যহার প্রতি তিন মাস ভিত্তিতে বা প্রয়োজন অনুসারে সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফার্নেস অয়েলের দাম সমন্বয়ের জন্য গত ১৫ মার্চ একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি মার্চ মাসে ক্রুড অয়েল আমদানি না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মার্চ মাসে পরিশোধিত ফার্নেস অয়েলের প্রকাশিত প্লাটস রেটের (আন্তর্জাতিক বাজারের দাম) গড় এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের ভিত্তিতে এপ্রিল মাসের ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করার সুপারিশ করে। পরবর্তীতে, ৫ ও ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিশন সভায় এই সুপারিশটি পর্যালোচনা করে নতুন দামের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ও সংশ্লিষ্টদের মতামত

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আমদানি করা ফার্নেস অয়েলের একটি বড় অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এই দাম বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কারণ, ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়লে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এই খরচ বৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের বিদ্যুৎ বিলে প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিইআরসির এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে এটি ভোক্তা পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দাম বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা না পড়ে।