বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাম বাড়ানোর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন দাম আজ রোববার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হচ্ছে, যার ফলে প্রতি লিটারের মূল্য ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা হয়েছে।
দাম বৃদ্ধির প্রভাব ও কার্যকারিতা
এই দাম বৃদ্ধি সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর মতো প্রধান ক্রেতাদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ফার্নেস তেলের দাম বৃদ্ধি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের বিদ্যুৎ বিলে প্রতিফলিত হতে পারে। নতুন দামে ফার্নেস তেল বিক্রি করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর অধীন চারটি সরকারি কোম্পানি: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল।
দাম নির্ধারণের ইতিহাস ও প্রক্রিয়া
এর আগে, ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল বিপিসির হাতে, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা বিইআরসির কাছে হস্তান্তর করে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিইআরসি প্রথমবারের মতো ফার্নেস তেলের দাম ঘোষণা করে, এবং আজ দ্বিতীয়বারের মতো দাম সমন্বয় করা হলো। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে দাম ১৬ টাকা কমেছিল, যা বর্তমান বৃদ্ধির বিপরীতমুখী।
সরকারের নির্বাহী আদেশে ফার্নেস তেলের দাম সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর, বিইআরসির কাছে দাম নির্ধারণের প্রস্তাব পাঠায় বিপিসি এবং চারটি তেল বিপণন কোম্পানি। গত বছরের ২০ জানুয়ারি এই প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর, বিইআরসি এক বছর পর ২৯ জানুয়ারি গণশুনানির আয়োজন করে, যা দাম সমন্বয়ের ভিত্তি তৈরি করে।
ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও সতর্কতা
এই দাম বৃদ্ধি শিল্প ও সাধারণ ভোক্তাদের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যদি দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, তাহলে এটি অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিইআরসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর এখন নজর রাখা হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দাম স্থিতিশীল রাখতে পদক্ষেপ নেয়।



