ময়মনসিংহে বিএনপি নেতার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তথ্য গরমিল: ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বিএনপির সদস্যসচিব আজিজুল হকের মালিকানাধীন একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তথ্যে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে। গত ৬ দিনে প্রায় ৫০ হাজার লিটার পেট্রলের হিসাবের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে, যা স্থানীয়ভাবে জ্বালানি সংকটের পেছনে একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও গ্রেপ্তার
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদার নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত গৌরীপুরের ডৌহাখলা কলতাপাড়া বাজার এলাকায় অবস্থিত মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালায়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক জলিল হোসেনকে (৩০) আটক করা হয়। তিনি গৌরীপুর ইউনিয়নের হিম্মতনগর গ্রামের উসমান গণির ছেলে বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ এই অভিযোগটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে একটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে, যা জ্বালানি তেলের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।
জ্বালানি তেলের তথ্য গরমিলের বিস্তারিত
মামলার দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফিলিং স্টেশনটি চলতি মাসের ১, ২, ৪, ৬ ও ৭ তারিখে জ্বালানি তেলের প্রাপ্যতা পরীক্ষার সময় তথ্যের গরমিল ধরা পড়ে। কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি এই দিনগুলোতে মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রল বরাদ্দ পেয়েছে। এর মধ্যে ১, ২ ও ৪ তারিখে ১৩ হাজার ৫০০ লিটার করে ৪০ হাজার ৫০০ লিটার এবং ৬ ও ৭ এপ্রিলে ৯ হাজার লিটার করে ১৮ হাজার লিটার পেট্রল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে, ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জলিল হোসেন এই বরাদ্দ অস্বীকার করেন এবং শুধুমাত্র ৩ এপ্রিল ৯ হাজার লিটার জ্বালানি পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। এই অসামঞ্জস্য থেকে বোঝা যায় যে, প্রতিষ্ঠানটি সম্ভবত অসৎভাবে তেল ব্যবসা বা অবৈধ মজুতের সঙ্গে জড়িত ছিল, যা স্থানীয় জ্বালানি সরবরাহে সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত স্থানীয় জনতা, দোকানি এবং মোটরসাইকেল চালকরা জানান যে, এই মাসে মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে মাত্র এক দিন পেট্রল বিক্রি করা হয়েছে। এতে করে এলাকায় জ্বালানি সংকটের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
জ্বালানি বিতরণে নিয়োজিত তদারক কর্মকর্তার প্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ৩ এপ্রিল তাঁকে জানানো হয়েছিল যে পেট্রল বরাদ্দ পেয়েছে, যা ৪ এপ্রিল বিতরণ করা হয়। তবে, ফিলিং স্টেশনের কার্যক্রমে এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফিলিং স্টেশনের মালিক ও বিএনপি নেতা আজিজুল হক এই ঘটনায় মন্তব্য করেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতে ম্যানেজার সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারেনি। আদালতের মাধ্যমেই সব বক্তব্য উপস্থাপন করে সত্য তুলে ধরব।’ তাঁর এই বক্তব্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আইনি লড়াইয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে।
পুলিশ ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, জ্বালানি তেলের তথ্যের গরমিলের কারণে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার গ্রেপ্তারকৃত ব্যবস্থাপককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এই ঘটনা ময়মনসিংহ অঞ্চলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় তদারকি জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ অবৈধ কার্যক্রম রোধে ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



