জ্বালানি নিরাপত্তায় জরুরি বৈঠক: ১৭ লাখ টন তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায়
জ্বালানি নিরাপত্তায় জরুরি বৈঠক: ১৭ লাখ টন তেল আমদানি

জ্বালানি নিরাপত্তায় জরুরি বৈঠক: ১৭ লাখ টন তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায়

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি ছুটির দিন আজ শনিবার জরুরি ভিত্তিতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চ্যুয়াল বৈঠক বসছে। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন উভয় কমিটির প্রধান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৈঠকের উদ্দেশ্য ও প্রস্তাবনা

বৈঠকে মোট ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রথমে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি আলোচিত হবে এবং অনুমোদন পেলে তা ক্রয় কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত অস্থিরতার প্রেক্ষিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করাই এ জরুরি বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

আমদানির বিস্তারিত প্রস্তাব

ক্রয় কমিটির বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক (ইউএই) ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিওর কাছ থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ১০ লাখ টন ডিজেল ও ১ লাখ টন অকটেন আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে। এ ছাড়া ইউএইর আরেক কোম্পানি ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে এক লাখ টন ডিজেল ও কাজাখস্তানের কোম্পানি কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও আলোচনায় আসতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, চলতি এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন। আজকের বৈঠকে উপস্থাপিত ১৭ লাখ টনের প্রস্তাবের মধ্যে ১৬ লাখ টনই ডিজেল। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আগামী মে ও জুন মাসের দিকে এসব তেল দেশে প্রবেশ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অনুমোদন প্রক্রিয়া ও পূর্ববর্তী পদক্ষেপ

গত ৩১ মার্চ ক্রয় কমিটির বৈঠকে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল। এবারের প্রস্তাব অনুমোদনের পরও নানা ধাপ পার হতে হবে। ক্রয় কমিটিতে অনুমোদন পেলে বিপিসি কোম্পানিগুলো থেকে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) সংগ্রহ করবে, এরপর ঋণপত্র (এলসি) খুলবে এবং কোম্পানিগুলোকে কার্যাদেশ দেবে।

সরকারি বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ও মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী মুঠোফোনে জানিয়েছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্যই সরকার এ জরুরি বৈঠক ডেকেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে অকটেনের সরবরাহে বর্তমানে কোনো সংকট নেই এবং অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসে ডিজেলেরও সংকট নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলা করে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।