সিলেটে শিল্পমন্ত্রী: মানুষের কষ্ট বিবেচনায় তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় যেসব দেশের নিজস্ব তেলের মজুদ রয়েছে, তারাও দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার দেশের মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে এখনো জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, যতক্ষণ সম্ভব হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার এই দাম বাড়াবে না।
আতঙ্কিত না হয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান
শুক্রবার একদিনের সফরে সিলেটে আসেন শিল্পমন্ত্রী। বিকালে তার বাসভবনে সিলেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানে মন্ত্রী জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা এখনো ঘটেনি বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, আতঙ্কিত হয়ে তেল নেওয়ার হিড়িকের কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই সবাইকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ক্রুড অয়েলের দাম বেড়েছে, কিন্তু সরকার মূল্য ধরে রেখেছে
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, ক্রুড অয়েলের দাম আগে ৫৫ থেকে ৬০ ডলার ছিল, যা এখন বেড়ে ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে। তারপরও বর্তমান সরকার মানুষের পছন্দের সরকার হিসেবে আগের মূল্য ধরে রেখেছে। উদ্দেশ্য একটাই, মূল্য বৃদ্ধির কারণে যেন মানুষ কষ্ট না পায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি না করে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পারবে, অর্থাৎ যতক্ষণ সহ্য করতে পারবে, ততক্ষণ দাম বাড়াবে না।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, যাদের তেল আমদানি করতে হয় না, সেখানেও প্রতি গ্যালন তেলের দাম ৩ ডলার থেকে বেড়ে কোথাও ৪ আবার কোথাও ৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি দরিদ্র রাষ্ট্র, যার আর্থিক সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। তারপরও মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে এই মূল্য ধরে রেখেছে সরকার।
এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণ
এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, এলপিজি গ্যাসের দাম নির্ধারিত হয় একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলায়। সৌদি আরবের আরামকোর একটি সিপি প্রাইজের সঙ্গে প্রিমিয়াম যোগ করে মার্কেটে প্রাইজ নির্ধারণ হয়। যেখানে উৎসে দাম বাড়ে, তার প্রতিফলন এখানেও পড়বে, এটাই স্বাভাবিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানির অবস্থা
জ্বালানি তেলের কারণে শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানাগুলো সাধারণত গ্যাসনির্ভর, সেখানে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করেই অন্য হিসাব করা হয়। তাই জ্বালানি তেলের কারণে শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশে চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি কমেছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি নয়, আশেপাশের প্রায় সব দেশের পোশাক রপ্তানিও এই খাতে কমেছে। এটি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আতঙ্ক একটি সংক্রামক বিষয়
জ্বালানি তেল নিয়ে সারা দেশে হইচই হওয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আতঙ্ক একটি সংক্রামক বিষয়। কেউ আতঙ্কিত হলে তার চারপাশের মানুষও আতঙ্কিত হয়। তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ পেট্রলপাম্পে গেলে তেল পাওয়া যাচ্ছে। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, আজ পর্যন্ত তেলের কারণে কিছু কি আটকে গেছে? সুইচ টিপলে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তাই সবার প্রতি আহ্বান, আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। যদি সামনের দিকে কোনো সমস্যা তৈরি হয়, তবে সবাই মিলেই মোকাবেলা করব। আতঙ্কিত হলে কোনো অলৌকিক সমাধান আসবে না।
সরকারের দায়িত্ব ও জনসচেতনতা
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, এ সরকার মানুষের মেন্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই রমজান মাস এসেছিল, সেখানে দেশের মানুষের সহায়তায় দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক ছিল। মানুষ আতঙ্কিত হলে বাজারে প্রভাব পড়ত, কিন্তু সেটা পড়েনি কারণ মানুষ সচেতন ছিল। তিনি জ্বালানির উৎসগুলোতে সমস্যা তৈরি হওয়ায় এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সবাইকে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে পরবর্তী দিনগুলোতে ভালো থাকা যায়।



